আইন-ই-আকবরী

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৬

  যা কিছু প্রথম

 

আইন-ই-আকবরী মুগল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড। আকবরনামা একটি ইতিহাস গ্রন্থ। সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত হয়েছে। এটি একটি প্রবিধানপূর্ণ প্রশাসনিক সারগ্রন্থ এবং একটি আধুনিক গেজেটিয়ার এর সমতুল্য। আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ প্রন্থ। আইন-ই-আকবরীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সম্রাট আকবরের সরকার ব্যবস্থা, এর বহুবিধ প্রশাসনিক বিভাগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ প্রভৃতি। ভারতবর্ষে মুসলিম আমলে লিখিত সকল ইতিহাসই ছিল ধারাবিবরণীমূলক। এগুলি ছিলো মুখ্যত কালক্রমানুসারে যুদ্ধ, বিজয় এবং বংশের উত্থান-পতনের বিবরণে পূর্ণ। দুর্ভিক্ষ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ব্যাপক মৃত্যু ছাড়া সাধারণ জনগণ এ সকল বিবরণে কখনো স্থান পায়নি। কিন্তু আইন-ই-আকবরী এক ব্যতিক্রমধর্মী রচনা। এ গ্রন্থে রাজকীয় স্থাপনা, সাম্রাজ্যের অভিজাত ও উচ্চপদস্থ অমাত্যবর্গের বর্ণনা ছাড়াও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত সাধারণ মানুষ ও কর্মচারীদেরও বিবরণ বিধৃত হয়েছে। এমন কি রাজকীয় হারেম, রন্ধনশালা এবং বাসনকোসন, সুগন্ধি, ঘোড়া, হাতি প্রভৃতি পশু, এবং বসন্ত ও হেমন্তকালীন শস্য ও শাকসবজি সহ যাবতীয় বিষয় এতে আলোচিত হয়েছে। আবুল ফজল এ গ্রন্থে হিন্দু, মুসলিম, জৈন ও অন্যান্য সমপ্রদায় নির্বিশেষে সকলের সামাজিক অবস্থা, সাহিত্য কর্ম, প্রচলিত আইন এবং দর্শন চিন্তাও আলোচনায় আনেন। তদুপরি এখানে খ্যাতিমান পরিব্রাজক, মুসলিম আউলিয়া,

দরবেশ ও সুফিদের ওপর পৃথক পৃথক অধ্যায় সংযোজিত আছে।               সূত্র: বাংলাপিডিয়া