দৈনিক ইত্তেফাকে খবর প্রকাশের পর জমিরন বিবিকে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বয়স্ক ভাতার একটি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সেলিম শাহ জমিরন বিবির বাড়িতে গিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ডটি তুলে দেন ।
এ সময় সহকারী পরিচালক নূর মোহাম্মদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত ২৯ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে ”জয়পুরহাটে ৮৬ বছরেও বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পান নি জমিরন বিবি” শিরোনামে সংবাটি প্রকাশিত হয়।
জয়পুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বুলুপাড়া (রশিদ হাজি পাড়া) গ্রামের শহীদ আনসার সদস্য শফির উদ্দিনের স্ত্রী জমিরন বিবি। বয়স ৮৬ বছর পার হয়েছে । জাতীয় পরিচয় পত্র মোতাবেক জন্ম তারিখ ১৯২৯ সালের ১২ মে।
সহায় সম্পদ না থাকলেও স্বামীর আয়-রোজগার দিয়ে ২ ছেলে ও ৩ মেয়েকে নিয়ে কোন মতে সংসার চালাতেন। ৪৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল জয়পুরহাটের বুলুপাড়া মাঠে ( চিনিকলের পশ্চিম পার্শে) পাক-সেনারা প্রথম হত্যা কান্ড চালায়। এতে শহীদ হওয়া ১০ জনের মধ্যে একজন হচ্ছেন শফির উদ্দিন। চোখের সামনের ওই দৃশ্য মনে হলে আজও আঁৎকে ওঠেন জমিরন।
ছোট ছোট ছেলে-মেয়ের সংসারের বোঝা মাথাই নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। এ সামান্য আয় দিয়ে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে চলে জমিরন বিবি’র সংসার। পরবর্তীতে অন্যের সাহায্য সহযোগিতায় ছেলে-মেয়েদের বিয়েও দিয়েছেন। সকলেই আলাদা হয়ে সংসার করছেন।
এখন জমিরন বিবি’র দু:খের শেষ নেই। ছেলে-মেয়েদের বাড়ি ঘুরে ঘুরে যেখানে খাবার জোটে সেখানে থাকেন। বর্তমানে এভাবেই চলছে শহীদ শফির উদ্দিনের স্ত্রী জমিরন বিবি’র জীবন।
দেশ স্বাধীন হবার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ পরিবার হিসেবে ত্রাণ মন্ত্রনালয় থেকে ২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিলেও নামের ভুলের কারণে সেই টাকা তুলতে পারেননি বলে জানান জমিরন।
শহীদ আনসার পরিবার হিসেবে ১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিন দেয়া হলেও এ পর্যন্ত আর কোন সাহায্য সহযোগিতা পান নি বলে জানান তিনি। এ অবস্থায় বিধবা বা বয়স্ক ভাতার জন্য বহুবার স্থানিয় কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল হয়নি বলে জানান জমিরন বিবি।
ইত্তেফাকে খবর প্রকাশের পর সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বয়স্ক ভাতার এ কার্ড প্রদান করা হলো।
ইত্তেফাক/এমএইচ
