শিক্ষার্থীদের নকলের সুযোগ দিচ্ছেন শিক্ষকরাই!

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৬, ১৪:৫৮
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে নকল করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা থাকেন দর্শকের ভূমিকায়। উপরন্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নকল তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। কয়েকদিনের সরেজমিনে নিকরাইলের তিনটি কেন্দ্রের এমন চিত্রও দেখা গেছে। বিশেষ করে শমমসের ফকির ডিগ্রী কলেজ ভেন্যুতে নকলের প্রবণতা ভয়াবহ। 
 
জানা যায়, উপজেলায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা নিকরাইলের তিনটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিকরাইলের তিনটি কেন্দ্রে পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে নকল করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নকল বন্ধে কোন প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপরন্ত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নকল তুলে দিচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলা জুড়ে নকলের মহোৎসব চলছে। 
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাইরে থেকে পরীক্ষার্থীদের স্বজনরা শিক্ষকদের ম্যানেজ করে প্রশ্ন বাইরে নিয়ে আসে। এরপর তারা প্রশ্নের উত্তর কাগজে লিখে জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়। শিক্ষকরাও সেটি না দেখে এড়িয়ে যান। এরপর শিক্ষকদেই সামনেই চলে নকল। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোন কর্মকর্তা হলে ঢুকতেই পরীক্ষার্থীদেরকে সর্তক করে দেয় শিক্ষকরা। আর এভাবেই চলছে জেএসসি প্রত্যেকটি পরীক্ষা। এদিকে নিকরাইল কেন্দ্রের তিনটির ভেন্যুর দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীনুর ইসলাম। 
 
পরীক্ষা শেষে একাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, নকল করার সময় স্যাররা আরো সাহায্যে করে। নকল ছাড়াও অনেকাংশে শিক্ষকরা আমাদের প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়। 
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান, উপর থেকে নির্দেশনা আছে শিক্ষার্থীদের কোন বলা যাবে না। পাশের হার বাড়াতে হবে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে ছাত্ররাই পরীক্ষা শেষে শিক্ষকদের পরের দিনের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলছেন। প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও নকলের বিষয়টি এড়িয়ে যান। IMG0
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, আপনি কেন্দ্রে এসে বলেন এবং দেখিয়ে দেন পরীক্ষায় নকল হচ্ছে। তাহলে আমরা নকল বন্ধে ব্যবস্থা নিব। তিনি আরো বলেন, জেএসসি পরীক্ষায় কোন ধরনের নকল হয়নি। তবে পরীক্ষার সময় বহিরাগতরা ঘুরাঘুরি করলেও তাদেরও পরীক্ষা হলের আশেপাশে বিচরণ বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও যদি নকল হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল হওয়ার কোন সুযোগ নেই। নিকরাইল কেন্দ্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজে পর্যবেক্ষণ করছেন। এধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই