সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ে ৩০তম অবস্থানে বাংলাদেশ: এডিবি

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৫১
 
বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারি ব্যয় মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো তাদের জিডিপির গড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে। এ অঞ্চলের ৩৮টি দেশের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
 
ম্যানিলা থেকে প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিডিপির ২২ দশমিক ১ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে সামাজিক নিরাপত্তায় এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে জাপান। আর তলানিতে থাকা পাপুয়া নিউগিনির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় জিডিপির শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকা জিডিপির সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে সামাজিক নিরাপত্তায়। নেপাল ২ দশমিক ২ শতাংশ, পকিস্তান ১ দশমিক ৪ শতাংশ, ও ভারত ১ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে ভূটান। প্রতিবেদনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, অংশগ্রহণমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে তথ্য ভান্ডারের বিকল্প নেই।টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিষয়টি সহায়ক হবে। বিশ্বের মাত্র ২৭ ভাগ মানুষ সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় রয়েছে। মাত্র ১৭ শতাংশ শ্রমিক এই সুবিধা পাচ্ছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসংশা করা হয়েছে। মাথাপিছু কম ব্যয়ের পরেও বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে তুলনামূলক বেশি উপকারভোগী রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের চেয়েও বেশি মাথাপিছু আয় করে ভূটান, ভানুয়াতু, তাজিকিস্তান পাপুয়া নিউগিনি জিডিপির তুলনায় কম ব্যয় করছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জিডিপির তুলনায় ব্যয়ের শীর্ষ দেশ জাপানের পরেই রয়েছে, উজবেজিকিস্তান, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কিরগিজিস্তান, কোরিয়া, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, মঙ্গোলিয়া। ভিয়েতনাম রয়েছে ১৪তম, শ্রীলংকা ১৯তম, নেপাল ২১তম, পাকিস্তান ২২তম, ভারত ২৪তম অবস্থানে।
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এশীয় অঞ্চলের ৩৮টি দেশ সামাজিক নিরাপত্তায় জিডিপির ৪ দশমিক ২ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে থাকে। অতিদরিদ্র মানুষের কল্যাণে এ অর্থ খুবই কম। সামাজিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হয়ে থাকে সামাজিক বীমা। প্রতিবেদনে সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যয় বাড়াতে এশিয়ার দেশগুলোকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। সামাজিক বীমা, পেনশন ও স্বাস্থ্য বীমা, সামাজিক সহায়তা, শিশু, নারী ও বয়ষ্ক মানুষের কল্যানে আরও বেশি কর্মসূচী চালু করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। ২০১২ সালের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এডিবি।
 

ইত্তেফাক/এএম।