গৃহকর্মী নির্যাতনে মামলা হয়, সাজা হয় না

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৬, ০৯:৩৪
 
গত ১৫ বছরে সারাদেশে মোট ১১ হাজার ৩০ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে ৫৭৯ জন গৃহকর্মীর। শুধু গত বছরে ৫১ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও আসামির সাজা হয় না। গৃহকর্মীদের নিয়ে কাজ করেন এমন সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে এ তথ্য। 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমাজে গৃহশ্রমিকদের অবস্থান একেবারেই দুর্বল। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক দিক দিয়ে তারা অবহেলার শিকার। তাছাড়া এক্ষেত্রে বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকায় নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীরা মুখ খুলতে চান না। এ কারণে বিচার চাওয়াও তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বা কোনো কোনো বিষয়ে মামলা হয়, কিন্তু পরবর্তীতে নানা দাপটের কাছে তারা পরাস্ত হন। মামলার শুরুতে অথবা মাঝপথেই সমঝোতা করে ফেলতে বাধ্য হন নির্যাতিত গৃহকর্মীরা। সাক্ষী সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে কেউ এগিয়ে আসে না।    

 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিস-বিলস এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গৃহকর্মীদের শতকরা ৫০ ভাগই তাদের নিয়োগকর্তা দ্বারা নির্যাতিত হয়। আর নির্যাতিতদের ৫০ শতাংশই শিশু।

 

গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক’ এর সমন্বয়ক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, গত ১৫ বছরে আমাদের জানা মতে গৃহশ্রমিক নির্যাতনে কারো সাজা হয়নি। পাবনায় একটি ঘটনার ক্ষেত্রে আসামির জেল হয়েছিল। কিন্তু মেয়েটিকে মানসিক রোগী বানিয়ে আসামি পরে খালাস পেয়ে যায়। তিনি বলেন, ক্রিকেটার শাহাদাতের বাড়িতে কাজ করা হ্যাপীর কেসটা কেন সমঝোতা হলো আমরা স্টাডি করে দেখছি। কারণ ফৌজদারি মামলায় সমঝোতা হয় না। যেখানে প্রমাণ ছিল, যে শিশু অত্যাচারিত হয়েছে। আদালতকে বা পুলিশকে বলতে হবে হ্যাপি কার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিল।  

 

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নিবার্হী পরিচালক মো. নূর খান বলেন, গৃহশ্রমিক নির্যাতন বা হত্যা মামলায় ঘটনায়, দুই-একটি মামলার রায় পাওয়া গেলেও সেটি ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। গৃহশ্রমিকদের সামাজিক অবস্থান এবং সমাজে বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু বিচার হয় না।

 

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এর উপ-পরিচালক অ্যাডভোকেট মো. বরকত আলী বলেন, আমাদের করা বেশিরভাগ মামলা আপোস হয়ে যায়। থানা থেকে চার্জশিট দিতে দেরি করে, যারা মামলা করে তারা তো বেশিরভাগ গরিব মানুষ, তাদেরকে মালিক পক্ষ টাকা দিয়ে আপোষ করে থাকে। যার কারণে সাজা হয়েছে এমন মামলা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। 

 

‘বিলস’ এর অ্যাডভোকেসি অফিসার অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, গৃহশ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা হয়। কোনো মামলায় গৃহকর্তার সাজা হয়েছে এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।