বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনলে হাসি পায় : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৬, ১০:০৯
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। যে দলের জন্মই হয়েছে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর হাতে, যারা নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই কলুষিত করে গেছে— সেই বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের ছবক শুনলে সত্যিই হাসি পায়। দেশে নাকি গণতন্ত্র নেই! বিএনপি কি জিয়াউর রহমানের মতো প্রতি রাতের কারফিউ গণতন্ত্র চায়? ২০৪১ সালের মধ্যে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, তারই একটি রূপরেখা তৈরি করে লিখিত আকারে জমা দেওয়ার জন্য দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
 
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ মুলতবি সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে যারা আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে শত শত মানুষ হত্যা করেছে, তাণ্ডব চালিয়েছে, বাংলাদেশের মাটিতে অবশ্যই তাদের বিচার হবে।               সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীদেরও বিচার হবে। খুনি, মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিচার চলতেই থাকবে। আর যারা একাত্তরের গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়ে তাদের হাতে লাখো শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন, বাংলার মাটিতে তাদেরও একদিন বিচার হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তৃণমূল থেকে দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। দেশের গ্রামাঞ্চলের চেহারাও আজ পাল্টে গেছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দেশবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশে একটি মানুষও দরিদ্র থাকবে না, একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, আজ গোটা বিশ্বই বলছে বাংলাদেশে ঈর্ষণীয় উন্নতি হয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে দলের আগামী দিনের সাংগঠনিক কর্মকৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের নির্বাচিত অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, এস এ মালেক, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এইচ টি ইমাম, ড. গওহর রিজভী, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ
 
আকৃষ্ট করে কর্মসংস্থান
 
সৃষ্টি করুন
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবগঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডিএ) দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বিআইডিএ’র গভর্নিং বোর্ডের প্রথম সভায় এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশে আরো দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।’ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
 
দেশে আরো বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্যই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) আইন-২০১৬ অনুযায়ী প্রাইভেটাইজেশন কমিশন এবং বিনিয়োগ বোর্ডকে একত্রিত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) গঠন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে দেশে আরো যুব উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
 
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উদ্যোগে কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রদত্ত বিনা জামানতে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসহ অন্যান্য সুবিধাদি গ্রহণ করে যুব সমাজ যেন নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই সৃষ্টির জন্য এগিয়ে আসে, সে বিষয়ে তাদেরকে উত্সাহিত করার জন্যও বিআইডিএ কর্তৃপক্ষকে আহবান জানান।
 
বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। কর্তৃপক্ষের প্রথম নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাজী মো. আমিনুল ইসলাম; যিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন কার্যকর হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে।  
 
বিআইডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এর ভবিষ্যত্ করণীয় তুলে ধরেন। এছাড়া বৈঠকে বিআইডিএ’কে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে অন্যান্যের মেধ্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বিদ্যুত্, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড.এম খায়রুল হোসেইন এবং এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রতিবেশী দেশের ক্ষতি করতে বাংলাদেশ তার
 
মাটি ব্যবহারের সুযোগ দেবে না
 
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন মিয়ানমারের সফররত বিমানবাহিনী প্রধান জেনারেল খিন অং মিন্ট। বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লি­ষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে মিয়ানমারের বিমানবাহিনী প্রধান আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে তৈরি করা সাইক্লোন সেন্টারগুলোর বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এগুলো তৈরিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়েও আগ্রহ দেখান।
 
ইত্তেফাক/এএন