সিনেটরকে ডিম নিক্ষেপের কারণ জানালেন সেই সাহসী তরুণ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ২১:০৮

g রয়টার্স

নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি করে ৫০ মুসল্লিকে হত্যার জন্য উল্টো মুসলিমদের দায়ী করা অস্ট্রেলীয় সিনেটরকে ডিম নিক্ষেপ করে দুনিয়াজুড়ে আলোচনায় আসেন তরুণ উইল কনোলি। ওই ঘটনার নয় দিনের মাথায় প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন উইল কনোলি। সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল টেন-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নিজেকে ‘মানবতাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরা এই অদম্য সাহসী তরুণ জানান, এক ঘণ্টা ধরে ওই সিনেটরের বক্তব্য শোনার পরই তার মাথায় ডিম ছোড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। উইল কনোলি-র ভাষায়, ‘কাউকে শারীরিকভাবে আক্রমণের কোনো কারণ নেই। এটা বুঝতে পারছি যে, আমি যা করেছি তা ঠিক হয়নি। তবে সেই ডিম জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’

উইল কনোলি বলেন, সিনেটরের বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় মা খুশি হয়েছেন। তবে আমার প্রতিবাদের ধরন তিনি মেনে নিতে পারেননি। কনোলি বলেন, ‘তিনি এভাবে আমার দিকে তেড়ে আসবেন, এটা আমার চিন্তায়ও ছিল না। ভাবছিলাম হেঁটেই সেখান থেকে সরে যাবো। তবে এ ঘটনা যে এতোটা আলোড়ন তৈরি করবে, তা ছিল আমার চিন্তার বাইরে।’ তিনি বলেন, আমার ধারণা ছিল বন্ধুরা এ ঘটনায় মজা করবে। তবে বাস্তবে সবাই মসজিদে হামলার চেয়ে এ ঘটনার প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে উঠলো। প্রকৃতপক্ষে মসজিদে হামলার শিকার ব্যক্তিদের দিকে আমাদের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। চ্যানেল টেন-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে রাজনীতির সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান নিজেকে ‘মানবতাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরা এই তরুণ।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। পরে এ  হত্যাযজ্ঞের জন্য উল্টো মুসলমানদেরই দায়ী করেন অস্ট্রেলীয় সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং। তার দাবি, মুসলিমরা নিউ জিল্যান্ডে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে বলেই সেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পরদিন ১৬ মার্চ এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন অ্যানিং। সেখানেই তার মাথায় ডিম ছুড়ে মারেন উইল কনোলি। এতে ক্ষুব্ধ সিনেটর ঘুরে দাঁড়িয়ে তাত্ক্ষণিক ওই তরুণকে আঘাত করতে থাকেন। অন্তত একটি চড় তার মাথায় লাগে। পরে উইল কনোলিকে গ্রেফতার করা হয়।

সিনেটরের মার খেয়ে গ্রেফতার হলেও ওই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দুনিয়াজুড়ে হিরোর তকমা পান উইল কনোলি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ক্রাউডফান্ডিং সাইট ‘গো ফান্ড মি’র মাধ্যমে দুই হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ইতোমধ্যেই সেখানে প্রায় ৪২ হাজার ডলার জমা পড়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫ লাখ টাকার মতো। ইতোমধ্যে অনলাইনে এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোক্তাকে উইল কনোলি জানিয়ে দিয়েছেন, এই অর্থের বড় অংশটি ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের দিয়ে দিতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।