g রয়টার্স
গাজায় ইসরাইল-হামাস সংঘর্ষের পর মিসরের মধ্যস্থতায় দুইপক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসরাইল এখনো সাইরেন বাজিয়ে তাদের দেশের নাগরিকদের ফিলিস্তিনের রকেট হামলার বিষয়ে সতর্ক করছেন।
গাজা থেকে ছোড়া দূরপাল্লার রকেট হামলায় তেলআবিবের কাছে সাত নাগরিক আহত হয় বলে সোমবার দাবি করেছিল ইসরাইল। এর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ইসরাইল। এরপর থেকেই উভয়ের মাঝে সংঘর্ষ বাধতে থাকে। ইসরাইলের মেগান ডেভিড অ্যাডম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, মিশমারেতের একটি বাড়ির আহত সাত বাসিন্দাকে তারা চিকিত্সা দিয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক শিশুও ছিল। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি দেখানো হয়। বাড়িটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জানিয়ে সাইরেন বাজানোর কয়েক মিনিট পরই রকেটটি আঘাত হানে। রকেটটি গাজা ভূখণ্ড থেকে ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ ইসরাইলি বাহিনীর। এ কারণে ইসরাইল তখন গাজা সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। পরিস্থিতি যখন ব্যাপক উত্তেজনাময় তখন মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরাইল-হামাস এক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ ইসরাইলে সাইরেনের শব্দ শোনা যায়। তখনও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে। ওই একইসময় ইসরাইলি বিমানগুলোও গাজার দুটি স্থাপনায় হামলা চালায় বলে ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন।
ইসরাইলি বিমানগুলোর প্রাথমিক হামলাস্থলের মধ্যে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়ার কার্যালয়ও ছিল, তবে হামলার আগেই হানিয়া কার্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। সোমবার রাতে হামাস যোদ্ধারাও ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক রকেট ছোড়ে। এর বেশির ভাগই গুলি করে ভূপাতিত করে ইসরাইলি প্রতিরক্ষাবাহিনী। বাকিগুলো ফাঁকা এলাকায় গিয়ে পড়ে। ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নতুন এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুর জন্য এবারের নির্বাচন কঠিন পরীক্ষা হয়ে দেখা দিতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। তার সঙ্গে সাবেক এক জেনারেলের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করা গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের ‘সার্বভৌমত্বে’ যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির দিনই হামাসের সঙ্গে নতুন এ সংঘর্ষে জড়াল তেল আবিব। ওই স্বীকৃতির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। গাজা থেকে ছোড়া রকেট হামলার খবর পেয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষেই সফর সংক্ষিপ্ত করেই দেশে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন এ ডানপন্থি নেতা। ‘ইসরাইল এটি সহ্য করবে না, আমি সহ্য করবো না। আমি যেভাবে বলছি, ইসরাইল সর্বশক্তি দিয়ে এই বিক্ষিপ্ত আগ্রাসন মোকাবিলা করবে,’ বলেন তিনি।
