রামেকের বহির্বিভাগের ফুটপাত বেদখল, দুর্ভোগে রোগীরা

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৬, ১৫:২৪
 
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) বহির্বিভাগের প্রধান ফটকের সামনে ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে বিভিন্ন দোকান-পাট। শুধু ফুটপাতেই নয়, পাশের রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো ভ্যানের ওপর ভ্রাম্যমাণ জিনিসপত্রের দোকান। এর ফলে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেনা। তারা বাধ্য হয়ে মাঝ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে পথচারী এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগি ও স্বজনরা।
 
শুধু ফুটপাতই নয় দুর্ভোগের আর একটি কারণ অটোরিকশা। অটোরিকশাগুলো হাসপাতালের গেটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের সরাতে তেমন ব্যবস্থা নেই না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
 
এদিকে অনেক সময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, এমনকি ছোট-খাটো দুর্ঘটনাও ঘটতে থাকে প্রতিদিন। আবার কিছুদিন পরপর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এসব দোকান উচ্ছেদ করলেও তাকে কোনো কাজ হয় না। উচ্ছেদের কিছুদিন পরেই আবার দোকানে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এর ফলে সেই দুর্ভোগ থেকেই যায়।
 
রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে রামেক হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা খালেদ জানান, ফুটপাতের উপর দোকান থাকায় আমাদের রাস্তার ভিড়ের মধ্যে দিয়ে আমাদেরকে চলাফেরা করতে হয়। রাস্তার ধারে ভ্যানের উপর আখেঁর রস, পিয়ারা, আমড়া, শশাসহ বিভিন্ন রকম ভাজা বিক্রি করায় দীর্ঘ যানজট হচ্ছে, রোগীদের নিয়ে রাস্তা পার হতে সমস্যা হচ্ছে।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানদার জানান, এ জায়গায় দোকান রাখার জন্য অন্যান্য দোকানদারদের মত আমাদের কে ভাড়া দিতে হয়। শহরে কোন এমপি-মন্ত্রী আসলে আমাদের কে খবর দেওয়া হয়, তখন আমরা উঠে যাই। আবার পরে এমপি-মন্ত্রী চলে গেলে আবার দোকান চালু করি। এখানে দোকান দিলে মেডিকেলের লোকদের দূরে যেতে হয় না, কাছে থেকে তারা অনেক কিছু পেয়ে যায়। এতে রোগীদের উপকার হয়।
 
নওগাঁর মহাদেবপুর থেকে আসা আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমি ১৫ দিন থেকে মেডিকেলে রোগী নিয়ে আছি, বিশেষ করে সকাল বেলা আউটডোরে অনেক রোগী আসে, আর ফুটপাত ও রাস্তার উপর অনেকগুলো দোকান থাকায় এ জায়গায় অনেক ভিড় হয়। এতে ছেলে মেয়ে ঠাসা-ঠাসি করে চলাচল করতে হয়। আর অটোরিক্সা গুলো যেখানে খুশি সেখানে অটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার কারণে অনেক সময় রাস্তায় যানজট হয়।
 
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ,এফ,এম, রফিকুল ইসলাম বলেন, এটাতো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের। বিষয়টা তারা দেখবে।
 
ইত্তেফাক/এএম।