বাংলাদেশের চকচকে দুই টাকার হাজার হাজার নোট ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এদেশের একটি চক্রের মাধ্যমে ভারতীয়রা বাংলদেশের দুই টাকার নোট ভারতে নিয়ে যাচ্ছেন। পাচারের বিষয়টি সম্পর্কে ব্যাংক, কাস্টমস কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন ধারণা নেই। এসব নোটের ব্যবহার নিয়ে রয়েছে নানা কথা। কেউ বলছেন ভারতে ইয়াবা সেবনে ব্যবহার হয় বাংলাদেশের দুই টাকার নোট। কেউ বলছেন শখের বশে শোপিস বানানো হয় দুই টাকার নোট পেঁচিয়ে। আবার এসব নোট ভারত হয়ে চীনেও চলে যায় বলে রটনা আছে বেনাপোল সীমান্তে।
বাংলাদেশের দুই টাকার নোট পাচারকালে গতকাল বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে আটক করেন মোহাম্মাদ নেসারকে (৫০)। তিনি ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আমাহার্ট স্ট্রিট, কলকাতা এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে। তার পাসপোর্ট নম্বর জেড-৩০২২৫৩২। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪১ হাজার ৬শ’ টাকা সমমূল্যের দুই টাকার নোট। এর আগে মাত্র এক সপ্তাহ আগে ৩ নভেম্বর বাংলাদেশি দুই টাকার ২৬ হাজার টাকার নোটসহ আরেক পাসপোর্টধারী ভারতীয় যাত্রী নাসিম (২৪) আটক হন বিজিবির হাতে।
২৬ বিজিবি বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার নজরুল ইসলাম জানান, দুটি ঘটনাতেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষের পর ভারতীয় ওই দুই যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তিনি আরও জানান, দুটি ঘটনায় আটক দুইজন ভারতীয় নাগরিককে মুদ্রা পাচারের অভিযোগে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশনের নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেদ করে কিভাবে এত নোট নিয়ে যাচ্ছে জানতে চাইলে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি ইকবাল আহমেদ বলেন, আমাদের দায়িত্ব শুধু পাসপোর্ট চেক করা। লাগেজ দেখার দায়িত্ব কাস্টমসের। বেনাপোল কাস্টমস চেকপোস্ট সুপার মো. সফিউল্লাহ বলেন, আমাদের অফিসাররা ব্যাগ তল্লাশি করে থাকেন। কিন্তু কী ভাবে এত টাকা চলে গেল এটা আমারও প্রশ্ন। শুনেছি বিজিবি নোম্যান্স ল্যান্ডে আটক করেছে। কিন্তু ওরা আমাদের জানায় না।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি ইকবাল আহমেদ জানান, ভারতীয় সাধারণ যাত্রীদের কাছে শুনেছি দুই টাকার নোট ইয়াবা সেবনে ব্যবহূত হয়। বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, দুই টাকার নোটসহ প্রথম ধরা পড়া ভারতীয় যাত্রী নাসিম জানিয়েছেন, দুই টাকার নোট দিয়ে তারা মূর্তি বানিয়ে পূজা করেন। এটা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলেও মনে হয়। বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার নজরুল ইসলাম জানান, তারা শুনেছেন এই নোট চীনেও এই পাচার হয়। তবে চীনে কী কাজে ব্যবহার হয় তা তিনি জানাতে পারেননি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যশোর অফিসের উপপরিচালক মো. নাজমুল কবীর জানান, ঢাকার তেজগাঁ বস্তি ও যশোরের একটি অভিযানে ইয়াবা সেবনে দুই টাকার নোটের ব্যবহার দেখেছেন।
ভারতীয় কোন পর্যটকের পক্ষে বাংলাদেশে এসে এত নোট জোগাড় করা সম্ভব না। এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল গফফার খান বলেন, যশোর বা বেনাপোল শাখায় নতুন দুই টাকার নোটের বান্ডিল থাকে না। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের ঢাকা বা খুলনা শাখা থেকে ভারতীয়দের সহযোগীরা সংগ্রহ করে দিতে পারেন।
