নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের আজ ৬৮তম জন্মদিন। মৃত্যুর আগে এক জন্মদিনে লেখক বলেছিলেন, ‘মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত লিখে যেতে চাই। লেখালেখি বন্ধ হলে আমার বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে পড়বে, আমি বাঁচতে পারবো না।’ তার সেই আশা পূরণ হয়েছিল। মৃতুর আগে পর্যন্ত তিনি লিখেছেন। নিউইয়র্কে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি ‘দেয়াল’ উপন্যাস লিখেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। সেই শোক আজো কাটেনি ভক্ত-পাঠকদের হূদয় থেকে।
হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারাদিন ধরেই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। দিনটি উপলক্ষে চ্যানেল আই চেতনা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে ‘৫ম হিমু মেলা’। নূহাশ পল্লীতে থাকছে বিশেষ অনুষ্ঠান। কানাডার টরেন্টোতে চলছে হুমায়ূন আহমেদের একক বই মেলা। এদিকে গতকাল রাত বারোটার পর ধানমন্ডির দখিন হাওয়ায় হুমায়ূন আহমেদের বাসায় কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে হুমায়ূন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন। উপন্যাস, নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠেছে অনুসরণীয়।
হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিত্সার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৪ জুন তাকে সমাহিত করা হয় তারই গড়ে তোলা নন্দনকানন নূহাশ পল্লীর লিচুতলায়।
হুমায়ূন আহমেদ নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতক ও ১৯৭২ সালে স্নাতকোত্তর পাস করেন। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। নব্বই দশকের মাঝামাঝি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন।
হুমায়ুন আহমেদের লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন ও ঘেটুপুত্র কমলা। টিভি নাট্যকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। আশির দশকের মাঝামাঝি তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাকে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১) ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ (১৯৯৩ ও ১৯৯৪) আরো অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। জাপান টেলিভিশন ‘এনএইচকে’ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছে পনের মিনিটের তথ্যচিত্র ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’।
ইত্তেফাক/এএন
