গৌরনদীর মরার ভিটায় আজো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়নি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ২১:৫০

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা

গৌরনদীর ১৩৫ শহীদের স্মৃতি বিজড়িত বধ্যভুমি বাটাজোরের মরার ভিটায় আজো স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ হয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকলেও তাদের এখনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি। এ কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারের স্বজনরা। তবে ২৫ মে  সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের যৌথ উদ্যোগে দ্বিতীয় বারের ন্যায় সেখানে মোমবাতি প্রজ্জালন করা হয়েছে।

জানা গেছে, পাকসেনাদের ভয়ে ৭১ সালের ১৫ মে, বাংলা ৩রা জৈষ্ঠ্য হরহর মৌজার নন্দিপাড়ার বনজঙ্গল বেষ্টিত জলাভূমিতে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছিল আশপাশ এলাকার কয়েকশ’ হিন্দু পরিবারের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুরা। কিন্তু বিষয়টি জানতে পারে পাকবাহিনীর দোষর ও স্থানীয় বাটাজোর ক্যাম্পের রাজাকাররা। তারা পাক হানাদারদের নিয়ে সেদিন ওই স্থানে হানা দেয়। হানাদাররা সেদিন নিরীহ জনতার ওপর ব্রাশ মেরে ১৩৫ জনকে হত্যা করে।

গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ওইদিন পাকসেনাদের আসার খবর পেয়ে বাটাজোরের হরহর মৌজার (নন্দি পাড়ার) বাড়ৈ বাড়ির পার্শ্ববর্তী জলাভুমিতে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছিল ওই এলাকার শতশত হিন্দু সমপ্রদায়ের নারী - পুরুষ ও শিশুরা। কিন্তু নরপশুদের কবল থেকে সেদিন তারা রেহাই পাননি।

সোমবার সন্ধায় ১৩৫ শহীদদের স্মরণে গৌরনদীর নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান খালেদা নাছরিন, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মামুনুর রহমান, খাদ্য পরিদর্শক অশোক কুমার চৌধুরী, একাডেমিক সুপার ভাইজার গৌরাঙ্গ প্রসাদ গাইন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন, বাটাজোর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ. কাদের, সাবেক  কমান্ডার ইসমাত হোসেন রাসুসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বধ্যভূমি মরার ভিটায় শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন ও পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।