নূপুরের নিক্বণে নৃত্যের ছন্দে মুখর হয়ে উঠেছে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। নৃত্য সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পমাধ্যম। শরীরী শৈলীর মাধ্যমে দর্শকের হূদয়ে নাড়া দেয়। প্রকাশ করে নিজস্ব শিল্প-ভাষা। নৃত্যের ছন্দোবদ্ধ উপস্থাপনার সঙ্গে অভিনয় শৈলী মুগ্ধতা ছড়াল দর্শকদের হূদয়ে। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো এ উত্সবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা। আটদিনের এ উত্সবে সারাদেশের ১৬টি নৃত্য সংগঠন অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস পরিবেশন করে নৃত্যনাট্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’। গতকালের উদ্বোধনী আয়োজনে বড় আকর্ষণ ছিলেন স্বনামখ্যাত নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। এতে আরো অংশ নেন আব্দুর রশিদ স্বপন, সেলিনা হক, আফরোজা কামাল গীতা, আবদুল মতিন প্রমুখ। গতকাল সোমবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে দ্বিতীয় জাতীয় নৃত্যনাট্য উত্সবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব আকতারী মমতাজ ও নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন প্রবীণ নৃত্যশিল্পী রাহিজা খানম ঝুনু ও নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মানুষের যুদ্ধে নৃত্যনাট্য হতে পারে এক শক্ত অস্ত্র। এ মুহূর্তে নৃত্যনাট্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান ভূমিকা পালন করতে পারে। সংস্কৃতির নানা মাধ্যমের মধ্যে নৃত্যনাট্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা নানা শিক্ষা প্রদান করে। এই মাধ্যমটি থেকে নানা রস আস্বাদন করে আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি।’
সংস্কৃতি খাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের দেশে সাংস্কৃতিক বিপর্যয় ঘটে গেছে। ঘুরে দাঁড়াতে হলে এখন সুচিন্তিতভাবে নতুনভাবে কর্মপ্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। জাতীয় উত্সবগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে হওয়ার চেয়ে সারা দেশের স্কুল-কলেজে হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।’
আজ মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বগুড়ার আমরা কজন শিল্পীগোষ্ঠী মঞ্চস্থ করবে ‘বারামখানা’ ও ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যটি পরিবেশন করবে ঢাকার নৃত্যালোক।
ইত্তেফাক/এএন
