এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিগত দিনে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করে আসছিলেন সুশীল সমাজ। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আন্দোলন দানা বেঁধেছিলো। অবশেষে সেই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ এ বছর এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এই দায়িত্ব পালন শেষে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ বলছেন, বাহির থেকে মুখে বলা খুবই সহজ; কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। অতীতে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যে ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছিলো তাতে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বছর এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত ‘ওভার সাইট কমিটি’ স্বচক্ষে তাদের দেখা বিষয় নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে ওভার সাইট কমিটির প্রতিনিধিরা ২০১৬-১৭ বছরে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা শুরু থেকে ফলাফল প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত তারা সকল কার্যক্রম মনিটরিং করেন। তাদের স্বচক্ষে দেখা অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। প্রতিনিধিরা বলেন, বাহির থেকে বলা খুবই সহজ, বাস্তবে দেখেছি ভিন্ন চিত্র। এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা একটি বিরাট কর্মযজ্ঞ। এটা বাহির থেকে বুঝা যায় না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তর সেই এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার বিরাট কর্মযজ্ঞ সফলভাবে করার জন্য তারা ধন্যবাদ জানান। ওই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ বছর এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক মনিটরিংয়ের জন্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে উক্ত ওভার সাইট কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মধ্যে রয়েছেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ। সভায় বক্তব্য রাখেন নাঈমুল ইসলাম খান, সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, বিসিপিএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এহতেশামুল হক, পরিচালক (মেডিক্যাল অ্যাডুকেশন) অধ্যাপক ডা. এমএ রশিদ ও বিএমএর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান।
ইত্তেফাক/এএন
