আইপিএল
g স্পোর্টস রিপোর্টার
আউটটা আইনেই স্বীকৃত। আইসিসির আইনে পরিষ্কার বলা আছে, বল করতে যাওয়ার মুহূর্তে যদি বোলার দেখতে পান যে, নন স্ট্রাইকার তার ক্রিজ থেকে বেরিয়ে গেছেন, তাহলে বেল ফেলে দিয়ে তাকে আউট করতে পারবেন। কিন্তু আইনে থাকলেও এই আউট করাটাকে অখেলোয়াড় সুলভ ব্যাপার বলে মনে করেন অনেকেই। আর সেই কাজটিই করেছেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
রাজস্থান রয়্যালসের দিনের সেরা ব্যাটসম্যান জস বাটলারকে এই আইনের প্যাঁচে ফেলে আউট করেছেন অশ্বিন। এই আউটের পর ম্যাচটিও ১৪ জিতে নিয়েছে পাঞ্জাব। কিন্তু ম্যাচ জিতলেও সমালোচনা থেকে বাঁচতে পারছেন না অশ্বিন। সারা ক্রিকেট দুনিয়া জুড়ে তার পক্ষে কিছু কথা থাকলেও মূলত নিন্দার শিকার হচ্ছেন ভারতীয় এই স্পিনার। বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আইপিএল।
ভিনু মানকড় একাধিকবার এই ক্রিজ থেকে বেরিয়ে আউট হওয়ায় পদ্ধতিটার নামই হয়ে গেছে ‘মানক্যাডিং’। বিভিন্ন সময় এইভাবে আউট করায় বোলার বিতর্কিত হয়েছেন। আবার ১৯৮৭ বিশ্বকাপের মতো আসরে কোর্টনি ওয়ালশ সুযোগ পেয়েও পাকিস্তানের সেলিম জাফরকে আউট না করায় হয়েছিলেন প্রশংসিত। বাংলাদেশের মোহাম্মদ রফিকও ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে সুযোগ পেয়েও মানক্যাডিং করেননি।
তবে এই কাজ করে মোটেও অনুতপ্ত নন অশ্বিন। তিনি নিজে বলেছেন, এটা স্বতঃস্ফুর্তভাবেই করেছেন তিনি এবং এটা খেলার অংশ, ‘দেখুন এটা খুব স্বতঃস্ফুর্ত ব্যাপার ছিল। আমার দিক থেকে আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা ছিল না বা এরকম কিছু না। এটা তো আইনেই আছে। আমি বুঝতে পারছি না এর মধ্যে ক্রিকেট চেতনার কথা আসছে কেন। আইনে যখন এটা আছে, কাজটা করায় তো সমস্যা নেই।’
আগে ব্যাট করে গেইলের ৭৯ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ১৮৪ রান তুলেছিল পাঞ্জাব। বাটলারের ৬৯ রানে জয়ের পথে ছিল রাজস্থান। কিন্তু এই আউটের পরই তারা ধসে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। ইনিংসের ১৩তম ওভারের পঞ্চম বল করতে এসে বাটলারকে এই বিশেষ পদ্ধতিতে আউট করেন অশ্বিন। তৃতীয় আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে বাটলার অসন্তোষ প্রকাশ করতে করতে ফেরেন।
এই ঘটনায় অশ্বিন নিজেকে সঠিক বলে দাবি করলেও ক্রিকেট দুনিয়ার বেশিরভাগ লোক তার সাথে নেই। তার সমালোচনা করেছেন বেন স্টোকস, ডেইল স্টেইন, শেন ওয়ার্ন, এউইন মরগ্যান, ক্যামেরন ডেলপোর্টের মতো সাবেক বর্তমান খেলোয়াড়রা।
শেন ওয়ার্ন তার টুইটারে লিখেছেন, ‘অধিনায়ক ও ব্যক্তি হিসেবে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের এই আচরণে আমি খুবই হতাশ। আইপিএলের সব অধিনায়ক একটা দেয়ালে লিখে সম্মত হয়েছিল যে, তারা সবাই ক্রিকেটের চেতনায় থেকে খেলবে। কিন্তু অশ্বিনের এই বলটা ডেলিভারি করারই কোনো ইচ্ছে ছিল না। বলটাকে ডেড বল ঘোষণা করা উচিত ছিল। বিসিসিআইয়ের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এটা আইপিএলের জন্য ভালো হলো না।’
আবার বিপরীতে কুমার সাঙ্গাকারার মতো লোককে পাশে পেয়েছেন অশ্বিন। ২০১৪ সালে এই বাটলার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একবার এভাবে আউট হয়েছিলেন। সেই কথা মনে করিয়ে সাঙ্গাকারা বলেছেন, ‘আইনে থাকা একটা আউট করলে ক্রিকেট চেতনার প্রসঙ্গ কেন আসবে?’
