আদালত থেকে নাটকীয়ভাবে পালিয়ে যাওয়া ধর্ষণের আসামি রুবেল গ্রেফতারও হলেন নাটকীয়ভাবে। পালানোর পর একহাতে হাতকড়া লাগিয়েই ঘুরেছেন দুই দিন। তবে পেঁচানো ছিলো ব্যান্ডেজ।
মঙ্গলবার ভোরে যখন প্রগতি সরণীর সুবাস্তু নজর ভ্যালি টাওয়ারের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় তখনো হাতে হাতকড়া ছিলো, পেঁচানো ছিলো ব্যান্ডেজ।
রবিবার বিকালে আদালত থেকে পালিযে রুবেল বাড্ডা এলাকা তার এক বন্ধুর বাসায় পৌঁছে। এর আগে একটি ফার্মেসি থেকে ব্যান্ডেজ কিনে ডান পরিহিত হ্যান্ডকাফটি ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে দেন। ওই ব্যান্ডেজ নিয়েই তিনি ঘুরে বেড়ান দু্ইদিন।
সোমবার ওই বন্ধুর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেয়। এরপরেই সে ঢাকার বাইরে পালানোর চিন্তাভাবনা করে। মঙ্গলবার ভোরে বাড্ডার ওই বাসা থেকে বের হয় সুবাস্তু নজর ভ্যালির সামনে বাসে ওঠার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে।
এসময় বাড্ডার একটি সিভিল টিম এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে চিনে ফেলে। রুবেলকে জাপটে ধরতেই রুবেল ছিনতাইকারী বলে চিৎকার দেয়। এসময় আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা রুবেলের হাতের ব্যান্ডজ খুলে দেয়। এতে হাতকড়া বেরিয়ে আসলে রুবেলকে মানুষ ধরিয়ে দিতে সহায়তা করে।
গ্রেফতারের পর তাকে গারো তরুণী ধর্ষণ মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে আদালত ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এর আগে আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে।
এর আগে বাড্ডায় গারো তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনার দশ দিন পর রুবেলকে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১। শনিবার বিকালে রুবেলকে বাড্ডা থানায় হস্তান্তর করে র্যাব। এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার জন্য রবিবার তাকে আদালতে নেয়া হয়। আদালতের বারান্দা থেকে রুবেল পালিয়ে যান। তখনো তার এক হাতে হ্যান্ডকাফ পরা ছিল।
দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে বাড্ডা থানার এসআই ইমরান হাসান ও কনস্টেবল দীপক চন্দ্র রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ইত্তেফাক/এমএইচ
