অবশেষে জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৭

এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল বাছাই শেষ

g সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

এএফসি তাদের ফুটবলের নতুন অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্ট শুরু করেছে চারটি আসর হয়ে গেল। এবার চতুর্থ আসর। বাছাইয়ের বিগত তিন আসরে বাংলাদেশ জয়ের মুখে দেখেনি। ১০ ম্যাচ খেলে একটি ড্র ছাড়া বাকি সবক’টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। এবার ২০২০ সালের চতুর্থ আসরের মূল পর্বের বাছাইয়ে বাংলাদেশের ফুটবল দল জয় পেয়েছে। গতকাল বাহরাইনের খলিফা স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামের মাঠে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল ২-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। বিপলু ও টুটুল গোল করেন।

বাংলাদেশের এই জয়টি অনেক অপেক্ষার। যদিও এরই মধ্যে বাংলাদেশ এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল বাছাই বি গ্রুপ পর্ব হতে বিদায় নিয়েছে, তারপরও শেষ খেলায় জয় পাওয়াটা বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য বিরাট পাওয়া। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ফিফার র্যাংকিংয়ে খুব পার্থক্য না হলেও বাংলাদেশের জন্য কালকের ম্যাচটি ছিল মর্যাদার। শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচে ১৮ গোল হজম করেছে। আর বাংলাদেশ দুই ম্যাচে ২ গোল হজম করে হেরেছে। এই হার মর্যাদার। কারণ বাহরাইন এবং ফিলিস্তিন এশিয়ার ফুটবলে অনেক শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে না পারাটাই স্বাভাবিক। তারপরও এই দুটি দলের বিপক্ষে বাংলার ফুটবলারদের লড়াই যারা দেখার সুযোগ পেয়েছেন তাদের কণ্ঠে প্রশংসার ফুল ফুটেছে। অনেকের মতে, গোল করার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারাটা ছিল বাংলাদেশের আক্রমণভাগের ব্যর্থতা। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে স্ট্রাইকার মতিন মিয়া গোলকিপারকে একা পেয়ে গোল করতে পারেননি। মতিন মিয়ার এই ব্যর্থতা ফেসবুকে দেখে আফসোসে বুক ফাটিয়েছেন বাংলাদেশের দর্শক। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে গোলকিপার পাপ্পুর ব্যর্থতায় গোল হজম করতে হয়েছিল। যেটা দেখে আফসোস করেছেন দর্শক। বাহরাইনের বিপক্ষে গোলকিপার জিকো দারুণ খেলেছিলেন। কিন্তু জিকো ফিলিস্তিনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পুরনো চোট বেড়ে যাওয়া তাকে সরিয়ে দিতে হয়েছিল। খেসরাত দিয়ে হয়েছে গোল হজম করে। তারপরও বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের খেলা সবার মন কেড়েছে। মাঠে ছিলেন হাজার হাজার প্রবাসী বাঙালি। তারা দেশের পতাকা নিয়ে গিয়েছিলেন স্টেডিয়ামে। দারুণ উজ্জীবিত ছিলেন খেলা দেখে। অনেকদিন যারা দেশে আসার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা বাংলাদেশের ফুটবলারদের খেলায় মুগ্ধ। দুই ম্যাচ হারলেও গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ খেলা দেখার জন্য মাঠে হাজির হয়েছিলেন দেশের পতাকা নিয়ে। স্টেডিয়ামে বসে অনেকে মোবাইলে খেলাটা লাইভ করেছেন ফেসবুকে। দেশে নিজেদের পরিবারের মানুষদের দেখানোর জন্য পুরো ৯০ মিনিটের খেলাটা লাইভ করেছেন মাঠ হতে।

এশিয়ান কাপ বাছাই গতকাল শেষ হয়েছে। এই বাছাই হতে সেরা ষোল দেশ আগামী বছর এশিয়ান কাপের চতুর্থ আসরে খেলবে। এখান থেকে বাছাই হওয়া সেরা ১৬ দেশ আগামী বছর এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। এই ১৬ দেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ এবং তৃতীয় স্থান পাওয়া দেশ আগামী বছর টোকিও অলিম্পিক গেমস ফুটবলে খেলার সুযোগ পাবে। যদি জাপান তিন দেশের একটি হয় তাহলে চতুর্থ দেশ অলিম্পিকের টিকিট পাবে।