মঙ্গলে মাশরুম!

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৪

ইত্তেফাক ডেস্ক

লাল গ্রহ মঙ্গলে মিলেছে মাশরুম! মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো মহাকাশযান কিউরিওসিটির পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে এই দাবি করেছেন একদল বিজ্ঞানী।  সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ঐ বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, মঙ্গলের মাটিতে মাশরুমের ছবি থেকে প্রমাণ হয় সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। ‘অ্যাস্ট্রোবায়োলজি অ্যান্ড স্পেস সাইন্স রিভিউস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে নিবন্ধটি। তবে বিজ্ঞানীদের এই দাবি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।

২০১২ সালে মঙ্গলের মাটিতে সফল অবতরণ করেছিল নাসার পাঠানো রোবটযান কিউরিওসিটি রোভার। রোবটটি এর লেজার ব্যবহার করে সেখানকার শিলাখণ্ড ছিদ্র বা দহন করে এই গ্রহের প্রাচীন আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল। মঙ্গল কখনো আনুবীক্ষণিক জীব বসবাসের উপযোগী ছিল কি না এবং এখন সেখানে জীবনধারণের মতো পরিবেশ আছে কি না বা ভবিষ্যতে সে অবস্থা তৈরির কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কিনা সেসব তথ্য জোগাড় করা্ই ছিল কিউরিওসিটির প্রধান কাজ।

এতোদিন ধরে বিজ্ঞানীরা দাবি করে এসেছে মঙ্গলপৃষ্ঠ উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য একদমই উপযুক্ত নয়। কিন্তু  অনুর্বর গ্রহ মঙ্গলপৃষ্ঠে ছত্রাক কিংবা মাশরুমের এই ছবি নিয়ে তাই বিতর্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক। যদিও মঙ্গলপৃষ্ঠে মাশরুম জন্মানোর দাবির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি নাসা। বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করান        কিউরিওসিটি রোভারের তোলা ১৫টি ছবি। এগুলোর মধ্যে মাশরুম এবং অন্য কিছু জলজ উদ্ভিদ থাকার দাবি করেছেন তারা। তাদের মতে, এই ছবিগুলো মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে যুগান্তকারী তথ্য দিয়েছে। মঙ্গলে যে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে সেটি প্রমাণিত হচ্ছে। একই সাথে পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের নমুনাও এটি।

নতুন এই গবেষণার অন্যতম সহযোগী স্কুল অব লাইফ সাইন্সের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজিনা দাস বলেন, পৃথিবীতে মাশরুমের দেখা মেলা কোনো বড় বিষয় না। কিন্তু মাশরুমের মতো কাণ্ড, ডালপালা এবং ছাতার মতো কোনো কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হতে দেখা যায় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ছবি দেখে নড়েচড়ে বসতে হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এগুলোকে মাশরুম বলে মনে করছেন। -ডেইলি মেইল