প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. জাফর ইকবাল বলেছেন, আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর সবাইকে এজন্য দেশকে মায়ের মত ভালবাসতে হবে। এ ভালবাসার জন্য নতুন প্রজন্মের দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়া আবশ্যক।
শুক্রবার বিকালে পিরোজপুরে এক শিক্ষার্থী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ড. জাফর ইকবাল বলেন, দেশের প্রতি ভালবাসা হচ্ছে সুন্দর ও অপূর্ব অনুভূতি। আজ দেশে লেখাপড়া করার উপযোগী চার কোটি ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এ ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শেষ করে যদি সুশিক্ষিত হতে পারে তাহলে দেশে এক বিরাট পরিবর্তন আসবে। সম্প্রতি বলা হচ্ছে নতুন সহস্রারাব্দের সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান। এ কথা শুনে আমার বুক আনন্দে ফুলে উঠছে। ছেলে-মেয়েরা শুধু লেখাপড়া করলে দেশটা সম্পদশালী হবে। একটা সময় ছিল যখন বলা হতো মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা কি পেলাম, তখন রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়তো। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, শাস্তি হচ্ছে। আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করে তুলতে হবে।
স্থানীয় স্বাধীনতা চত্বরে আন্তঃস্কুল বিজ্ঞান ক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষার্থী সমাবেশ ও শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ড. জাফর ইকবালের সহধর্মিনী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, ছোট ভাই কাটুর্নিস্ট আহসান হাবিব, নাগরিক নেতা এডভোকেট এম এ মান্নান, মুক্তিযোদ্ধা এম এ রব্বানী ফিরোজ, সাংবাদিক গৌতম চৌধুরী, উন্নয়ন কর্মী জিয়াউল আহসান, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসানুল কবির বাদল ও নারী নেত্রী মাকুলী বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. ইকবালের তিন বোন প্রফেসর সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদসহ পরিবারের সদস্যরা।
ড. জাফর ইকবালের পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ ৭১ সালে পিরোজপুরে মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা পদে চাকরিরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার কারণে পাকসেনাদের হাতে শহীদ হন। শুক্রবার এ শহীদের সন্তানেরা তার পিতার কর্মস্থল, শাহাদাৎ বরণের বধ্যভূমিসহ স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং পৌর গোরস্থানে শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে কবর জেয়ারত, দোয়া ও মোনাজাত করেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
