জাবিতে ভর্তি পরীক্ষা আজ শুরু

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৬, ০৯:১২
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার থেকে শুরু হবে। চলবে বুধবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টায় প্রথম শিফটের পরীক্ষা শুরু হবে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ২ হাজার ৩০টি আসনের বিপরীতে অংশগ্রহণ করবে ২ লাখ ২০ হাজার ২৯৮ জন পরীক্ষার্থী। প্রতি আসনের জন্য লড়বে ১০৯ জন।
 
এদিকে টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালিয়াত চক্র। প্রতিবছর বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চক্রটি ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করে থাকে। তবে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় দুটি কৌশলে ভর্তি করিয়ে দিতে তত্পর হয়ে উঠেছে তারা। জানা যায়, জালিয়াত চক্র ফেসবুকে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখাচ্ছে। ৫ লাখ টাকা দিলেই তারা ভর্তি করিয়ে দেবে বলে জানায়। 
 
সাদেকিন হায়দার নামে এক শিক্ষার্থী জানান, তাকে মো. মাহফুজ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রশ্ন করা হয় জাবিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক কি না? তখন তিনি জানান, হ্যাঁ ইচ্ছুক। কত টাকা লাগবে। উত্তরে বলা হয় পাঁচ লাখ টাকা। পরীক্ষার ওয়েমার সিট পরিবর্তন ও পরীক্ষার হলে অন্য আরেকজনকে দিয়ে সাহায্যের মাধ্যমে চান্স পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। শুধু চান্স পেলেই টাকা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। 
 
পরে তার সঙ্গে কখন কীভাবে কোথায় যোগাযোগ করা যাবে জিজ্ঞেস করলে ওই আইডি থেকে জানানো হয়, আপনাকে এই পদ্ধতিতে ভর্তি করানো যাবে না। আপনাকে সন্দেহ হচ্ছে বলে তাকে ফেসবুকে ব্লক করে দেয়। পরে ওই ফেসবুক আইডি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এভাবে বিভিন্ন কৌশলে তত্পর হয়ে উঠেছে  জালিয়াত চক্র।
 
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য কক্ষ নির্ধারিত থাকলেও আসন নির্ধারিত নেই। এ সুযোগে যে যার মতো কোনো নির্দিষ্ট কক্ষে পরিচিতদের সঙ্গে বসে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। এই কারণে চুক্তি অনুযায়ী ভর্তি করিয়ে দিতে তারা পরীক্ষার হলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠায়। আর এসব কাজ করে জগন্নাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষার্থী  আগেই ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় তারা। গত বছর এভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনি রহমান নামে এক শিক্ষার্থী অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে আটক হন।
 
অন্যদিকে পরীক্ষা গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ওয়েমার সিট পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। গত বছর ভর্তি পরীক্ষায়ও বিভিন্ন হল থেকে সিট পরিবর্তনের দায়ে অনেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমেও উত্তরপত্র পাঠিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করা হয়। জালিয়াত চক্র ধরার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তত্পর থাকবে।