প্রণোদনা সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না বহুজাতিক কোম্পানিগুলো

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৬, ২১:২৮
বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়ার পরও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না দেশে কার্যরত বেশিরভাগ বহুজাতিক কোম্পানি। দীর্ঘদিন ধরে শেয়ার বিনিয়োগকারীরা বহুজাতিক কোম্পানি ও সরকারি কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করার দাবি করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমানে এ ধরনের প্রায় সাড়ে তিনশ’ নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থাকলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে মাত্র ১২টি কোম্পানি।
 
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি ভালো হওয়ায় এ কোম্পানিগুলো ঘিরে শেয়ার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক বেশি। এমনকি মৌলভিত্তি সম্পন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কম হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানিতেই সাধারণত বিনিয়োগ করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন থেকেই বহুজাতিক কোম্পানিসহ মৌলভিত্তি সম্পন্ন মুনাফামুখী সরকারি কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত করার কথা বলছেন বিনিয়োগকারীরা।
 
এতে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়বে। ইতিবাচক হবে পুঁজিবাজারের গতিপ্রকৃতি। ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির ইতিবাচক প্রভাবে বড় উদাহরণ হলো- গ্রামীণফোন। ২০০৯ সালে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ফলে গোটা পুঁজিবাজারই ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। কিন্তু গ্রামীণফোনের পর আর কোন বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি।
 
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, কোন বহুজাতিক কোম্পানিই স্বেচ্ছায় পুঁজিবাজারে আসবে না। তাদেরকে আনতে হলে নীতি নির্ধারকদেরকে কার্যকরী পদক্ষেপ রাখতে হবে। এজন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নিবন্ধনের সময়ই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির শর্ত থাকা দরকার। আর যারা বর্তমানে নিবন্ধিত রয়েছে তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে হবে। এ উদ্যোগ নিতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয়কেই।
 
জানা গেছে, বাংলাদেশে কার্যরত ইউনিলিভার ভারত, পাকিস্তান এবং থাইল্যান্ডের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। অনেক বহুজাতিক কোম্পানিই অন্য যেসব দেশে ব্যবসা করছে সে দেশগুলোতে ঠিকই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোন উদ্যোগ নেই। এ ব্যাপারে ড. আবু আহমেদ বলেন, যে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে না তাদের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। তবেই তারা তালিকাভুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নিবে। তাছাড়া এ কোম্পানিগুলো আমাদের দেশে ব্যবসা করে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা মুনাফা করে নিয়ে যাচ্ছে। তাই কিছু টাকার মালিকানা দেশের শেয়ারহোল্ডারদেরকে তারা দিতেই পারে।
 
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে ব্যাপকহারে বহুজাতিক কোম্পানি এবং সরকারি মুনাফামুখী কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হবে না ততদিন পর্যন্ত বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা উচ্চ পর্যায়ে যাবে না। তাই এ ধরনের কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে। তাই এ কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিএসইসিকেই উদ্যোগী হতে হবে।
 
 
ই্ত্তেফাক/এমআই