ইত্তেফাক ডেস্ক
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করেছে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা। ফল ঘোষণা বিলম্বে হওয়ায় দেশটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তরে একটা সংকটের মধ্যে পড়তে হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ তার কাছে আছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসি’র
গত রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সেনা সমর্থিত ও থাকসিন সমর্থিত দল জয় এবং সরকার গঠনের পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে। থাকসিন সমর্থিত পিউ থাই পার্টি দাবি করেছে, তারা নিম্নকক্ষের ৩৫০ আসনের মধ্যে ১৩৭টি আসন পেয়েছে। সেনা শাসনের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তারা সরকার গঠন করবে। তবে সেনা সমর্থিত দল পপুলার ভোটের বেশিরভাগের সমর্থন পেয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ওপেন ফোরাম ফর ডেমোক্র্যাসি ফাউন্ডেশন (পি-নেট) জানিয়েছে, নির্বাচন নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদেশে অগ্রিম ভোট নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত ছিল না। কর্মকর্তাদের কোনো অভিজ্ঞতাও ছিল না। তাদেরকে নির্বাচনের মাত্র ছয় থেকে সাত মাস আগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ভোট কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা দেখতে কোনো স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষকও ছিলেন না। ভোট কেনা-বেচা হয়েছে। কিন্তু সেটি তদন্তের জন্য যোগ্য কোনো লোক নেই। স্থানীয় কিছু প্রার্থী জয়ের জন্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা দ্য এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস জানিয়েছে, ব্যালট পেপারে ভুল ছিল। ২৮ লাখ ব্যালটই অবৈধ। নির্বাচনের রাতে প্রাথমিকভাবে যে ফল ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলোর অনেকগুলোই ভুল ছিল বলে মনে করে নেটওয়ার্ক। নির্বাচনে কেলেংকারি ঠেকাতে কমিশনের দ্রুত ফল ঘোষণা করা উচিত বলে পর্যবেক্ষক সংস্থাটি মনে করে। এছাড়া অভিযোগ, সেনা সমর্থিত সরকারের কমিশন তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে।
থাকসিন যা বলছেন
২০০৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত থাকসিন বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ তার কাছে আছে। থাকসিন বলেছেন, নির্বাচনী অনিয়মে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, অনেক স্থানে ভোটারের চেয়েও বেশি ভোট পড়েছে। পেতচাবুন প্রদেশে একটি কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে গিয়ে আরেকটি স্থানীয় অফিসে রাখা হয়েছে। এ কারণে সেনা সমথিত দলটি তৃতীয় স্থানে থেকেও আকস্মিকভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। কিছু আসনে হেরেও জিতে গেছে সরকার সমর্থিত দল। এর মাধ্যমে দেশে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে বলে মনে করেন থাকসনি।
