ফতুল্লায় কেমিক্যালের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ০০:২১

ফতুল্লায় একটি ডাইং কারখানার কেমিক্যালের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ফতুল্লার পাগলা ইসলামিয়া বৌবাজার এলাকায় অবস্থিত বোম্বে ডাইং কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই কারখানার ভবনসহ আশপাশের বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হঠাত্ বিকট শব্দে কেঁপে উঠে বৌবাজার এলাকা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ও ধোয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় বোম্বে ডাইংসহ আশপাশের এলাকা। এতে কারখানার তৃতীয় তলার ছাদ বিস্ফোরণে দীর্ঘ ছিদ্র হয়ে ভবনের দেয়াল উড়ে যায়। দেয়ালে লাগানো এসি অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। এ সময় কারখানার দেয়ালের ইটের আঘাতে আশপাশের বাড়ির দরজা, জানালা, গ্রিল, টিনের চালের মারাত্মক ক্ষতি হয়। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, চারতলা বিশিষ্ট কারখানার দ্বিতীয় তলায় কেমিক্যালের গোডাউন থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ভবনের কয়েকটি দেয়াল ধসে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার দুইটি স্টেশন থেকে চারটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দমকল বাহিনীর প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় সকাল সাতটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঐ কর্মকর্তা আরো জানান, আগুনে কারখানার বেশ কিছু কেমিক্যাল, মেশিন ও আসবাবপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গুদামে রাখা কেমিক্যালের কোনো ড্রামের বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইলিয়াস জানান, বোম্বে ডাইং কারখানার মালিক পক্ষের কারো সন্ধান পাইনি।

রূপগঞ্জে আগুনে ৪০ বসতঘর ভস্মীভূত

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪০ বসতঘর ও ৪টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে থাকতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ভুলতা ইউনিয়নের বলাইখা এলাকার হযরত আলীর ঘরে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে হযরত আলীর ১৯টি বসতঘর, একটি দোকান, শহীদুল্লাহ মিয়ার ৬টি বসতঘর, একটি দোকান, মমতাজ বেগমের ১১টি বসতঘর, একটি দোকান, মারফত আলীর ৪টি বসতঘর ও একটি দোকান পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে ৬৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দাবি করেছেন।

বুড়িগঙ্গার তেল ঘাট এলাকায় লঞ্চে আগুন

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার সদরঘাট বুড়িগঙ্গা নদীর তেল ঘাট এলাকায় ডকইয়ার্ডে  মঙ্গলবার দুপুরে এমভি ঝান্ডা - ২ লঞ্চের তৃতীয় তলায় আগুন লেগে ৮ কেবিন পুড়ে গেছে।  ঢাকা নদী বন্দর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন ও সদরঘাট নৌ পুলিশ থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, লঞ্চটির মেরামত কাজ করার সময় ওয়েলডিং থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।  এ সময় লঞ্চের ৮টি কেবিন পুড়ে যায়।