গত ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১১ বছরে শিল্প-কারখানায় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৬১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরেই নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৮১ শ্রমিক। এর মধ্যে ২০১৩ সালে শ্রমিক নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১ হাজার ৫১১ জন। আলোচ্য বছরে ভয়াবহ রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় শত শত শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেপটি এন্ড রাইটস সোসাইটি’র (এসআরএস) জরিপে এ তথ্য জানা গেছে।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসআরএস এবং ব্লাস্ট’র (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং এ ধরনের দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উপর জোর দেয়াসহ সাত দফা সুপারিশ দেয়া হয়। আগামী ২৪ নভেম্বর তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের চার বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ওই দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে এ প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেফটি এন্ড রাইটসের নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা। এ সময় জানানো হয়, গত পাঁচ বছরে নিহত শ্রমিকদের মধ্যে কেবল অগ্নিকাণ্ডেই নিহত হয়েছেন ৩৭৩ জন। আর গত মাসে ২২৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৪১ জন। এর মধ্যে সমপ্রতি গাজীপুরের টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪৫ শ্রমিক।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩১৬টি আহত ও নিহতের ঘটনার তথ্য অনুসন্ধান করে এ জরিপ কাজটি চালানো হয়। এসব নিহতের পরিবার ও আহতরা বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পান নি। এসব শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে। বিশেষত কোন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হওয়া পরিবার দুর্দশার শিকার হয়েছে বেশি।
ইত্তেফাক/এএম।
