দিয়াজকে হত্যার অভিযোগ পরিবারের

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৬, ২২:১৩
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। 
 
এদিকে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা বিলকিস বলেন, ‘দিয়াজের শরীরের তিন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গলার উভয় পাশে আঁচড়ের চিহ্ন আছে। তবে বাঁ পাশে আঁচড়ের পরিমাণ বেশি। হাতের কবজি ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’ 
 
ফলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। দিয়াজের ব্যবহারকৃত মুঠোফোনটি পাওয়া যায়নি। 
 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ২নং গেট এলাকায় মো. সেলিম হোসেনের বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতো দিয়াজ। তবে চবি ছাত্রলীগের আন্ত:কোন্দল ও টেন্ডারবাজির জের ধরে দিয়াজের বাসা ভাঙচুর হওয়ার পর থেকে দিয়াজ সেখানে একাই থাকতো। মা ও ছোট বোন থাকতো ক্যাম্পাসের নানুর বাসায়। 
 
রবিবার রাতে ওই পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার দিয়াজের নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। দিয়াজের মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই বাসার আশপাশে ভিড় করে। দিয়াজের অনুসারীরা বলছে- এটা সুইসাইড নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা। 
 
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রোববার রাতেই ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সবার উপস্থিতিতে রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিলিং ফ্যান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ নামানো হয়। 
 
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) নেয়ার সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের তোপের মুখে রাত ১টার দিকে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা বিলকিস বলেন, ‘দিয়াজের শরীরের তিন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গলার উভয় পাশে আঁচড়ের চিহ্ন আছে। তবে বাম পাশে আঁচড়ের পরিমাণ বেশি। হাতের কবজি ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে এগুলো আঘাতের চিহ্ন কিনা- তা বলা যাচ্ছে না।’
 
দিয়াজের মা জোবায়দা খানম চৌধুরী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে।’
 
দিয়াজের মামা রাশেদ বিন আমিন চৌধুরী বলেন, ‘যারা দিয়াজের বাসায় আগে হামলা চালিয়েছে তারাই পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছে। ’
 
জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় শত কোটি টাকা টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে চবি ছাত্রলীগের মধ্যে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান সভাপতি আলমগীর টিপু এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রেীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান। এর জেরে গত ২৯ তারিখ রাতে দিয়াজের বাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।
 
দিয়াজের রাজনৈতিক অনুসারী শাখা ছাত্রলীগের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আবু বকর তোহা বলেন, ‘বাসায় ভাঙচুরের পর দিয়াজ ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার ওপর অনেক ধরনের চাপ ছিল। দিয়াজ ভাইকে কেউ মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে কিনা- সেটা তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
 
হাটহাজারী থানার ওসি (তদন্ত) মুজিবুর রহমান জানান, ‘এটি আত্মহত্যা না হত্যা এখনই বলা যাচ্ছে না। পোস্ট মোর্টেম রিপোর্ট আসার পর বোঝা যাবে।’
 
সোমবার বাদ আসর দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর জানাজার  নামাজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ক্যাম্পাসের কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
 
ইত্তেফাক/ইউবি