বিভিন্ন স্থানে চাল জব্দ ও মামলা কয়েক হাজার কার্ড বাতিল

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৬, ০১:৪২

সারাদেশে গরিবের জন্য বরাদ্দ ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের মুখে বিভিন্ন স্থানে কার্ড বাতিল ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

 
দিনাজপুরে ১১ হাজারের বেশি কার্ড বাতিল ও ৩টি মামলা
 
দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় অনিয়মের কারণে ১১ হাজার ৩৩২টি চালের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ৩টি মামলা দায়ের ও ৫ জন ডিলার পরিবর্তন করা হয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়সার আলী জানান, হতদরিদ্র মানুষের মাঝে চাল বিতরণের কার্যক্রম ৭ নভেম্বর শুরু হয়। জেলার ১৩টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৮ জন হতদরিদ্র পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি চাল দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্তির সময় অনিয়ম ও দুর্নীতি করে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম হতদরিদ্রদের তালিকায় দেয়া হলে তা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সোমবার পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৩২টি কার্ড বাতিল করা হয়। এখন সচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড বাতিল করে সেখানে প্রকৃত হতদরিদ্রদের নাম তালিকাভুক্তি করা হচ্ছে।
 
এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলায় চাল বিক্রির জন্য ২৩৪ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে ৫ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরো জানান, ডিলারসহ ১০ টাকা কেজি চাল কেনার অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা মামলা ৩টি তদন্ত করছেন।
 
মদনে পাচারকালে দুই হ্যান্ডট্রলি ভর্তি চাল জব্দ, আটক ১
 
নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় স্থানীয় জনতা ২টি হ্যান্ডট্রলি বোঝাই চালসহ ১ জনকে আটক করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। 
 
জানা গেছে, নায়েকপুর ইউনিয়নে সিংহের বাজারের ডিলার দিলোয়ার হোসেন কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিক্রি না করে গত রবিবার বিকালে দুটি হ্যান্ডট্রলিতে চালের বস্তা বোঝাই করে কালো বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করছিল। বস্তার গায়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিল দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। হ্যান্ডট্রলি দুটি বরাটি এলাকায় যেতেই লোকজন তা আটক করে চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এসময় গাড়ি চালকরা জানান, চালগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল হান্নানের দোকানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রথমে নায়েকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতিকুর রহমানকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাত্ক্ষণিক বিষয়টি মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশকে অবহিত করেন। স্থানীয়রা জানান, দুটি হ্যান্ডট্রলিতে অন্তত ৫০ বস্তা চাল রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ডিলার দিলোয়ার হোসেন গা ঢাকা দিয়েছেন। মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খুরশীদ শাহরিয়ার বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
চন্দনাইশের ধর্মপুরে ৩৭টি কার্ড বাতিল
 
উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি চালে জনপ্রতিনিধির অনিয়মের কারণে ৩৭টি কার্ড বাতিল  করা হয়েছে। নামের তালিকায় স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় আ’লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন হিরু। সংসদ সদস্যের নির্দেশক্রমে যাচাই-বাছাইর মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো: সেলিম হেলালি ৩৭টি কার্ড বাতিল করেন।
 
মিঠাপুকুরে স্বেচ্ছায় সাড়ে ৩ হাজার কার্ড ফেরত
 
১০ টাকা কেজি চালের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কার্ড স্বেচ্ছায় ফেরত দিয়েছেন মিঠাপুকুরের বড় লোকেরা। প্রথম থেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল স্বজনপ্রীতির মাধমে ও সচ্ছল ও ধনী ব্যক্তিদের নামে কার্ড দেয়ার। পরে প্রশাসনের মাইকিং ও আলোচনার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টির ফলে স্বেচ্ছায় কার্ড ফেরত এসেছে সাড়ে ৩ হাজার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কার্ড ফেরত দেয়া অনেকেই জানান, শুনেছিলাম এই কার্ডের মাধ্যমে আটা, ময়দা, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দেয়া হবে। আমরা চাল পাওয়ার যোগ্য না হলেও আটা, ময়দা, তেল পাওয়ার যোগ্য। তাই কার্ড নিয়েছিলাম।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন-অর-রশীদ বলেন, প্রথম পর্যায়ে কার্ড ফেরত দেয়া ব্যক্তিদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। এরপরও যদি তালিকায় বড় লোকদের নাম পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ইত্তেফাক/এএন