বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম আসরে মাশরাফি বিন মুর্তজার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল সাকিব আল হাসানের খুলনা রয়েল বেঙ্গলস। দ্বিতীয় আসরে মাশরাফির নেতৃত্বে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের জার্সিতে বিপিএল শিরোপার স্বাদ পেয়েছিলেন সাকিব। ওই দুই আসরে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার।
বিপিএলের তৃতীয় আসরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মাশরাফির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হেরে ছিটকে পড়েছিল সাকিবের রংপুর রাইডার্স। বিপিএলে অতীতের এসব অর্জন, তিক্ততা সবই উবে গেছে তার কাছে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সাকিব দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, চলমান আসরে প্রধান ও একমাত্র চাওয়া বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়া। নিজের পারফরম্যান্সের ভালো-খারাপ নিয়ে চিন্তা নেই, সাকিবের মন-প্রাণ জুড়ে শুধু বিপিএল ট্রফি জয়ের নেশা।
গতকাল কুমিল্লাকে ৩২ রানে হারিয়ে পঞ্চম জয় পেয়েছে ঢাকা। বিপিএলে নিজের টার্গেট জানাতে গিয়ে দলটির অধিনায়ক সাকিব বলেন, ‘এবার বিপিএলের টার্গেট ফাইনাল খেলা, পারলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এটা ছাড়া কোনো টার্গেট নেই। গাড়ি টাড়িও দেখা যাচ্ছে না (হাসি)। গাড়ি না থাকলে ম্যান অব দ্যা সিরিজ হয়ে লাভ কি?’
ট্রফি জয়ে উন্মুখ সাকিব আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত লক্ষ্য থাকে অনেক সময়। কিন্তু একটা সময় একটা পর্যায়ে গিয়ে ওগুলো অতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। গুরুত্ব হচ্ছে, দলের হয়ে কতটা অবদান রাখা যায়। ট্রফি জেতা যায়। একটা ট্রফি জেতার সম্ভাবনা এখনও আছে আমাদের। আমরা চেষ্টা করব সবাই মিলে যেন ওটা জিততে পারি। আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য যদি জিজ্ঞেস করেন তাহলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া আর কোনো লক্ষ্য নেই। আমার ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নেই।’
বিপিএলে আট ম্যাচে ছয় উইকেট, ২২.৩৩ গড়ে ১৩৪ রান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪১ রানও গতকালই কুমিল্লার বিপক্ষে করেছেন। পারফরম্যান্সের এই পরিসংখ্যান কখনোই অলরাউন্ডার সাকিবের নামের সঙ্গে মানানসই নয়। যেখানে ক্যারিয়ার জুড়ে নিজের পারফরম্যান্স বিষয়ে সবচেয়ে সচেতন, সজাগ সাকিবকেই দেখা গেছে সবসময়। এবার বদলে গেছে এই বাঁহাতির চিন্তা-ভাবনার দর্শন। নিজের পারফরম্যান্সকে পাশে রেখে সাকিব শুধু বিপিএলের শিরোপা জয়ের দিকে নিবিষ্ট।
বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত টার্গেটে রকমফের হয় বলেই জানালেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আসলে টার্গেট একেক সময় একেক রকম থাকে। এ বছর একটাই টার্গেট ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া। সেটা যেভাবেই হোক, আমি অবদান রাখতে পারি, না পারি আমার কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দল কেমন পারফর্ম করে।’
ফাইনালে যেতে চান ঢাকার অধিনায়ক। সেখানে ভাগ্যের সহায়তাও চাচ্ছেন তিনি। সাকিব বলেন, ‘ফাইনালে যেতে হলে ভাগ্য লাগে। ভালো দল হলেই যে ফাইনাল খেলব এমন কোনো কথা নয়। ভালো টিম হওয়ার সাথে সাথে মাঠে ভালো খেলা গুরুত্বপূর্ণ পাশাপাশি ভাগ্যও লাগে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে আমরা ফাইনালে যাব, ভালোও লাগবে। এটাই মূল টার্গেট বিপিএলে আমার।’
এবার বিপিএল আগের তুলনায় ভালো হচ্ছে বলে জানালেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘কয়েকটা দল আছে ভালো। খুলনা ভালো করছে। তবে আমার কাছে মনে হয় চিটাগং এখন সেরা দল। বিশেষ করে ওদের মানসম্পন্ন বিদেশি আছে, যারা টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ। এ দুটি দল খুব ভালো। রংপুরের স্পিন আক্রমণ ভালো। খুব ভালো একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এই বিপিএল আমার কাছে মনে হয় তিনটি বিপিএলের থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে।’
সাকিবের মতে, স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের কারণে টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক সবইতো স্থানীয়। এটা খুবই ভালো লক্ষণ। এই কারণেইতো এবারের টুর্নামেন্টটা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে। সব স্থানীয় খেলোয়াড়রা ভালো করছে।’
ইত্তেফাক/এএন
