কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও তার সুষ্ঠু তদন্তসহ পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশ।
শনিবার রাত ১১টর দিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানারে এ অবরোধের ডাক দেয় তারা। এর ফলে অবরোধের প্রথমদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনে ক্লাস ,পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো শাটল ট্রেন এবং শিক্ষক বাস চলাচল করতে পারেনি।
জানা গেছে, অবরোধের প্রথমদিন শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দিয়ে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করে ও কোন ধরনের শিক্ষক বাসও চলাচল করতে দেয়নি তারা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কাটা পাহাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এমন স্লোগান দেয় একদল শিক্ষার্থী। এসময় একটি সিএনজি অটোরিকশা ও দুইটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাঙচুর করে দ্রুত সরে পড়ে আন্দোলনকারীরা। এসময় সিএনজি অটোরিকশার চালককে মারধরও করে তারা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের পরীক্ষা ও ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় নি।
এ বিষয়ে ষোলশহর স্টেশন মাস্টার শাহাবুদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে অবস্থানকারীরা শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে অবরোধ করেন। ফলে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে তাই বর্তমানে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো- দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আদালতের নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্তের স্বার্থে প্রক্টরিয়াল বডি থেকে সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনকে অপসারণ, সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার, পূর্বের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নতুন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেশ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, কে বা কারা এ আন্দোলন করছে আমরা জানি না। তবে তারা যদি আমাদের কাছে আসে তাহলে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। এবং শিগগির যেন ট্রেন ও শিক্ষক বাস চলাচল করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেট এলাকার নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার দুইদিন পর ২৩ নভেম্বর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয় আত্মহত্যার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে দিয়াজের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরিবার এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে দিয়াজকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রামের আদালতে ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ইত্তেফাক/এমআই
