ওহিও বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার সঙ্গে জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ১৬:৪৯
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক ছাত্রের হামলায় ১১ জন আহত হয়েছে। পুলিশ গুলি করে হামলাকারীকে হত্যা করে, ঘটনাটি জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
 
সোমবার ১৮ বছর বয়সী আব্দুল রাজ্জাক আলি আরতান বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচারীদের উপর গাড়ি তুলে দেন। এরপর ছুরিকাঘাত করা শুরু করেন যার ফলে আহত হয় ১১ জন। পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করে। তার হামলার কারণ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত নয় তবে এটি জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান কিম জ্যাকব। তিনি বলেন, আমার মনে হয় এটা আমাদের বিবেচনা করতে হবে। যেভাবে হামলাটি চালানো হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত।  
 
কিন্তু মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, হামলার আগে আরতান ফেসবুকে বিদ্বেষপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আরতানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক পেজের একটি পোস্টের বরাত দিয়ে এনবিসি টেলিভিশনে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সেখানে আরতান বলেছেন আমি আর এটি মেনে নিতে পারছি না। আলকায়েদা নেতা আনওয়ার আল আওলাকি ও একাকী হামলার দিকেও ইঙ্গিত দেন তিনি। 
 
পোস্টে আরো বলা হয়, আমেরিকা! অন্য দেশের বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ করো, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের দিকে। আমরা দুর্বল নই। কিন্তু দুই ঘণ্টা আগের এক পোস্টে বলা হয়, ক্ষমা করো, ভুলে যাও এবং ভালোবাসো। ফেসবুক পেজটি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
 
আরতানের সম্পর্কে সংশয়পূর্ণ তথ্য উঠে আসছে মার্কিন গণমাধ্যমে। শিক্ষার্থী সাংবাদিক কেভিন স্ট্যানকিউইচ আরতানের ক্যাম্পাসের প্রথমদিনে তার সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। তখন তাকে মোটেও ‘রাগী যুবক’ বলে মনে হয়নি তার। 
 
IMG0
 
ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লজিস্টিক ম্যানেজম্যান্টের শিক্ষার্থী গত আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের পরিচালিত দ্য ল্যানটার্ন পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, আমি সবার সামনে নামাজ পড়তে চাই,কিন্তু গণমাধ্যমে যে প্রচারণা চলছে তাতে আমি ভীত। আমি মুসলিম। যদি কেউ কোনো মুসলিমকে নামাজ পড়তে দেখে জানি না মানুষ কি ভাববে। তবে আমি তাদের দোষ দেবো না, এটা গণমাধ্যমের দায়। মুসলিমদের সম্পর্কে এই চিত্রটা গণমাধ্যম তৈরি করেছে, এবং এইজন্য মানুষ আমাকে নামাজ পড়তে দেখলে অস্বস্তি বোধ করবে। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ