মাহবুব শরীফ
সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশন (আইডিসি) বাংলাদেশের স্মার্টফোন আমদানি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বাংলাদেশি ভেন্ডররা সর্বমোট ২৮.৫ মিলিয়ন ইউনিট মোবাইলফোন আমদানি করেছে। যা পূর্বের বছরের তুলনায় ১৭% কম।
বাংলাদেশে এই প্রথম ফিচার ফোন ও স্মার্টফোন আমদানির হার কমেছে। বর্তমানে দেশে ৭৬% স্মার্টফোন বাজার দখল করে আছে। অন্যদিকে শুধু স্মার্টফোন আমদানি হয়েছে ২১.৬ মিলিয়ন ইউনিট যা ২০১৭ সালে ছিল ২৬.১ মিলিয়ন ইউনিট।
দেশে ফোরজি সেবা চালু হয়েছে ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে। ফোরজি সেবা উচ্চমূল্যের কারণে স্মার্টফোনে নেটওয়ার্ক কাভারেজ কম হয়েছে। যাইহোক, দেশে ফোরজি স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধি ধীর গতিতে চলছে।
মোবাইলফোন বিক্রেতারা তাদের পণ্যে মূল্য কমাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফিচার ফোন ক্যাটাগরিতে কাস্টমস ডিউটির বড় প্রভাব দেখা গিয়েছে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায় বিক্রেতারা উচ্চ খরচ চালাতে অক্ষম হচ্ছে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ট্রানশান ও নোকিয়া তাদের শেয়ার হারাচ্ছে।
২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে স্মার্টফোনের অবস্থান
২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধি প্রতি প্রান্তিকে বেড়েছিল ২% হারে। দেশে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে অ্যান্ড্রয়েডের গো এডিশন সহায়তা করেছে। অ্যান্ড্রয়েড গো সমর্থিত স্মার্টফোনের অবস্থান ৪৩% যা ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ২৯%। বছরটির চতুর্থ প্রান্তিকে এসে এই অবস্থান হয় ৫১%-এ।
এইচএমডি দেশে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড গো সমর্থিত স্মার্টফোন বাজারে উন্মুক্ত করে। দেশের বাজারে প্রতিযোগী হিসেবে সিম্ফনি দ্রুত এই বিষয়টি চিহ্নিত করে এবং দ্রুত তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করে।
সিম্ফনি
সিম্ফনি ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত তাদের মার্কেট শেয়ার ২২% পর্যন্ত ধরে রেখেছে এবং সারাবছর তারা আধিপত্য চালিয়েছে। যাইহোক, এর আগের প্রান্তিকে তারা ৩% মার্কেট শেয়ার হারিয়েছে । সিম্ফনি ওই প্রান্তিকে দেশের তৈরি স্মার্টফোনে প্রথম ধাপ পেয়েছে। যদিও তারা এখনো বিদেশ থেকে স্মার্টফোন আমদানি করছে। প্রতিযোগিতার জন্য প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় পর্যায়ে আগামী প্রান্তিকে উত্পাদনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রানশান
দেশের মোবাইল বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ট্রানশান। প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট শেয়ার ২০১৮ সালের শেষ প্রান্তিক পর্যন্ত ১২%। ট্রানশানের ব্র্যান্ড আইটেল তাদের অবস্থান ধরে রাখতে এখনো অবদান রাখছে। স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উত্পাদনের বিষয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শাওমি
স্যামসাংকে হটিয়ে তৃতীয় অবস্থান দখল করেছে শাওমি। শাওমি পোকো সিরিজের এফ ১ একটি সহনীয় মূল্যে দেশের বাজারে বাজারজাত শুরু করে। দেশে রেডমি ৬এ এবং রেডমি ৬ শাওমির সর্বোচ্চ বিক্রিত স্মার্টফোন। তাদের ৫৬% বিক্রিত স্মার্টফোন হলো এই দুইটি। ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি অ্যান্ড্রয়েড গো সমর্থিত স্মার্টফোন রেডমি গো বাজারজাত শুরু করেছে।
স্যামসাং
স্মার্টফোনের বাজারে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ২০১৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ৩১% মার্কেট শেয়ার দখল করেছিল। তাদের জনপ্রিয় স্মার্টফোন গ্যালাক্সি জে২ ফোরজি সমর্থিত ও কম মূল্যের হওয়ায় অধিক পরিমাণে বিক্রি হয়েছে। যদিও সম্প্রতি তারা অ্যান্ড্রয়েড গো সমর্থিত জে২ কোর বাজারজাত শুরু করেছে। এই ফোনটির বাজার মূল্য ১০০ মার্কিন ডলার। ফোনটি ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে উন্মুক্ত করা হয়।
হুয়াওয়ে
হুয়াওয়ে দেশের স্মার্টফোন বাজারে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত দেশের আমদানি সেটের ৪ শতাংশ হলো হুয়াওয়ের স্মার্টফোন। প্রতিষ্ঠানটির থ্রিজি সমর্থনযোগ্য স্মার্টফোন ওয়াই থ্রি বেশ জনপ্রিয় একটি স্মার্টফোন। হুয়াওয়েও অ্যান্ড্রয়েড গো সমর্থিত স্মার্টফোন বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। ওয়াই ৫ লাইট (ফোরজি সমর্থিত) স্মার্টফোন অন্য গো সমর্থিত স্মার্টফোনগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।
