রেমিট্যান্স প্রবাহের মন্দাভাব অব্যাহত রয়েছে। প্রতি মাসেই কমছে এ খাতে আয়ের পরিমাণ। চলতি অর্থ বছরের (২০১৬-১৭) নভেম্বর মাসেও কমেছে প্রবাসী আয়। কমতে কমতে এমন পর্যায়ে এসেছে যে, একক মাস হিসাবে নভেম্বর মাসে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় চলে এসেছে। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৯০ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন। আর চলতি বছরের নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৯৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার। চলতি অর্থ বছরের নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্স কম আসায় সার্বিকভাবে এ অর্থ বছরের পাঁচ মাসে আগের অর্থ বছরের পাঁচ মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স কমে গিয়েছে। আগের অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয় কমার কারণ হিসেবে জনশক্তি রফতানিতে ভাটা, অবৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, মার্কিন পাউন্ডসহ বিভিন্ন মুদ্রার দরপতন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণেই এমন ঘটছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থ বছরের প্রবাসী আয় এসেছিল এক হাজার ১৬৫ কোটি ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা। এরপর ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৫৩২ কোটি ডলার। অর্থাত্ চার বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। তবে প্রতি অর্থ বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও গত অর্থ বছরে এসে আড়াই শতাংশ কমে যায়। গেল অর্থ বছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। আগের অর্থ বছরে যা ছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। চলদি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরেও কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, অর্থ বছরের প্রথম মাস তথা জুলাইতে ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে, যা বিগত ৩৪ মাসের মধ্যে ছিল সর্বনিম্ন। এ ছাড়া চলতি অর্থ বছরের অক্টোবরে প্রবাসীরা ১০১ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা গেল অর্থ বছরের একই মাসের চেয়ে ৮ কোটি ৭৪ লাখ ডলার বা ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ কম। গেল অর্থ বছরের অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স আসে ১০৯ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। এ ছাড়া চলতি অর্থ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আসে ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। যা আগের বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ১৩৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স আসে ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। যা গেল অর্থ বছরের আগস্ট মাসে ছিল ১১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি জুলাইতে ছিল আরো করুণ। চলতি অর্থ বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসে মাত্র ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। অথচ গেল অর্থ বছরের একই মাসে ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে।
সবমিলে চলতি অর্থ বছরের (জুলাই-নভেম্বর) প্রথম পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৫২১ কোটি ডলার। যা গেল অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৭ লাখ ডলার বা ১৬ শতাংশ কম। গেল অর্থ বছরের জুলাই-নভেম্বর এই পাঁচ মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ৬১৮ কোটি ডলার। গত অর্থ বছরে আগের অর্থ বছরের তুলনায় অনেক কম রেমিট্যান্স এসেছিল। এ বছর তা আরো কমলো।
