বাগেরহাটে ছয় পুকুর পুনঃখনন ও সংরক্ষণ কাজে অনিয়ম!

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ২১:৩৬

অভিযোগ অস্বীকার ঠিকাদারের

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে জনসাধারণের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে সরকারের ছয়টি পুকুর পুনঃখনন ও সংরক্ষণ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার কাজের বিল আটকে দিয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে অনিয়ম এবং বিল আটকে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ঘটনাস্থল কচুয়া উপজেলার চরকাঠি গ্রাম এবং সাংদিয়া গ্রামসহ চিতলমারী ও রামপাল উপজেলায় গেলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, ‘সঠিকভাবে পুকুরগুলো পুনঃখনন ও সংরক্ষণ করা হয়নি। পুকুর থেকে সঠিকভাবে মাটি তোলা না হলেও লবণ ও পচাপানি ভরে পুকুর থেকে বালি ও মাটি তুলে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। পুকুর সংরক্ষণে সিমেন্ট, বালু ও লোহার রড দিয়ে আরসিসি পিলার তৈরি, ওয়াকওয়ে তৈরি এবং চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বেষ্টনী নির্মাণ ও শিডিউল মতে করা হয়নি।’

এ দিকে পুকুর পুনঃখনন ও সংরক্ষণের বিষয়ে বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শামীম আহমেদ  বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পল্লী অঞ্চলে পানি সংরক্ষণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ১০৮টি পুকুর, দিঘী ও জলাশয় পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এই কাজের জন্য মীর রহমত আলীর মেসার্স রহমত ট্রেডার্স কচুয়া, চিতলমারী ও রামপাল উপজেলার ছয়টি পুকুরের মাটি কাটা, আরসিসি পিলার ও কাটাতারের বেড়ার নির্মাণ কাজ পায়। ওই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৮০  লাখ টাকার বিল জমা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগ কাজের মান পরিদর্শনে গিয়ে কাজে নানা ত্রুটি দেখতে পেয়েছে। তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে পুনঃখনন করা পুকুর হস্তান্তর করে তাদের কাছ থেকে অনাপত্তি চিঠি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কাছে চূড়ান্ত বিল জমা দিতে বলা হয়েছে। দুই দফায় ওই ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হলেও তিনি এখনো তা জমা দিতে পারেননি। এজন্য ওই প্রতিষ্ঠানের ৮০ লাখ টাকার বিল আটকে দেওয়া হয়েছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রহমত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মীর রহমত আলী বলেন, ‘ছয়টি পুকুর পুনঃখনন ও সংরক্ষণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। বিল আটকে দেওয়ার তথ্যটিও সঠিক।’