আবহাওয়া অনুকূল লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৩০০০ হেক্টরে আবাদ ১০৫টি বাঁধ নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে
শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বোরোর বাম্পার ফলন হতে পারে বলে কৃষি বিভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এবার নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এখন জেলায় হাওরের বোরো জমিগুলোতে শুধু সবুজের সমারোহ। যেন সবুজ কার্পেট।
নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি হাওর উপজেলাসহ ১০টি উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৮০ হাজার ৯৫২ হেক্টর। আবাদ হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ছয়শত হেক্টর। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান, এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল এবং ৩২০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো আবাদ করা হয়েছে। চাল উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত লাখ ২৫ হাজার ৮২১ টন।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় চারটি, খালিয়াজুরীতে ছয়টি, মদনে চারটি, আটপাড়ায় একটি, ধর্মপাশায় একটি, কলমাকান্দায় একটি এবং বারহাট্টায় তিনটি হাওরের ১০৫টি ছোট-বড় বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। কাজ প্রায় শেষের দিকে।’
বুধবার সকালে মদন এবং খালিয়াজুরীর কয়েকটি হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাঁধগুলোর নির্মাণ কাজ চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিআইসি কমিটির একজন বলেন, পিআইসি কমিটিগুলো নির্ধারিত সময়ে গঠন প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করা হয় না। ফলে বাঁধ নির্মাণের কাজও বিলম্বে শেষ হয়। এগুলোর দিকে জোর দিতে হবে।
নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, তিনি হাওরের কয়েকটি বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। বাঁধগুলোর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এখন আগাম পানি আসলেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে প্রতিবছর বাঁধ নির্মাণ না করে বাঁধ নির্মাণে উন্নত প্রযুক্ত বের করে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা দরকার। এতে করে আগাম বা আকস্মিক কোনো বন্যা হলেও ধানের কোনো ক্ষতি নাও হতে পারে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বুধবার বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে বাঁধ নির্মাণে মনিটরিংও করা হয়েছে এবং তিনি নিজেও বেশ কয়েকবার হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নেত্রকোনা খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে চিহ্নিত হলেও বিগত কয়েকবারের বন্যায় ফসলের বেশ ক্ষতিসাধিত হয়। এজন্যই এবার বাঁধ নির্মাণের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি হাওর জনপদের নেতা হিসেবে পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আনিসুর রহমান খালিয়াজুরী থেকে মোবাইলে এই প্রতিনিধিকে বলেন, এখন পর্যন্ত হাওরগুলোর পরিস্থিতি অনুকূলে। যদি কোনো বড় ধরনের প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি না হয়, তাহলে বোরো আবাদ ভালো হবে।
