যশোরের চৌগাছা মুক্ত দিবস

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:৫৪
আজ ৬ ডিসেম্বর। যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীকে শোচনীয়বভাবে পরাজিত করে চৌগাছা এলাকামুক্ত করেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে চৌগাছার সকল ধর্ম বর্ণের দামাল ছেলেরা মুক্তির নেশায় সে দিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা এবং মিত্র বাহিনীর তীব্র আক্রমণে ৭১-এর ১৮ নভেম্বর রাতে পাক হানাদার বাহিনী চৌগাছা বাজার ও ডাক বাংলো ছেড়ে পিছু হটে পার্শ্ববর্তী কয়ারপাড়া এবং রস্তমপুর গ্রামে বাংকার খনন করে অবস্থান নেয়।
 
মুক্তিযোদ্ধারা এ সময় চৌগাছা ইউনিয়ন (বর্তমান উপজেলা) সম্পূর্ণভাবে হানাদার মুক্ত করে ১৯ নভেম্বর সকালে চৌগাছা কালীতলা নামক স্থানে তহশীল অফিসের সামনে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা বিএলএফ লিডার মোফাজ্জেল হোসেন তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে প্রথম বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করে। এজন্য চৌগাছাকে স্বাধীনতার প্রথম প্রবেশদ্বার বলা হয়। ১৯ শে নভেম্বরের পর মক্তিবাহিনী দুর্বার গতিতে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ায় শুরু করে। পরাজয় নিশ্চিত মনে করে পাকবাহিনী উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, বর্ণি, কঁচুবিলা, মাশিলা খাতির শাহ আঁকড়া এবং বড় কাবিলপুরে ক্যাম্প ছেড়ে যশোর সেনা নিবাসের দিকে পালাতে থাকে। পাকবাহিনী এ সময় কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধারা ও মিত্রবাহিনী ব্রিজটি সংস্কার করে।
 
চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর ১০-১৫টি সম্মুখ যুদ্ধ হয়। সব থেকে ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ হয় উপজেলার জগন্নাথপুর ও গরিবপুর মাঠে। মিত্রবাহিনী ও পাকবাহিনী উভয়ে যুদ্ধবিমান ও ট্যাঙ্ক বহরের সাহয্যে নেয়। এ দিন মিত্রবাহিনী পাকবাহিনীর সাতটি ট্যাঙ্ক এবং দুইটি জঙ্গি বিমান ধ্বংস ধ্বংস করেছিল। যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল। পাক হানাদার বাহিনীরা সবচেয়ে বেশি অত্যাচার চালিয়েছিল তৎকালীন গণপরিষদের আইন মন্ত্রী শহীদ মশিউর রহমানের গ্রাম সিংহঝুলী ও জগন্নাথপুর গ্রামে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের গোলাবারুদ শেষ হয়ে গেলে জগন্নাথপুর, সিংহঝুলি ও গরীবপুর মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ও পাক বাহিনীর মধ্যে মল্লযুদ্ধ (হাতাহাতি) শুরু হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অনেক সৈন্য নিহত হয় । অবশেষে ৬ ডিসেম্বর চৌগাছার পূব আকাশে বিজয়ের সূর্য উঠে। এদিন সমগ্র চৌগাছায় হানাদার বাহিনীর কবল থেকে সমগ্র চৌগাছা এলাকা মুক্ত হয় এবং জগন্নাথপুর ও সিংহঝুলির মাঠে (বর্তমান মুক্তিনগর গ্রাম) প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
 
দিবসটি পালন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও চৌগাছা প্রেসক্লাব নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ