ভারত সফররত বাংলাদেশের একশ তরুণ-তরুণীকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, আমি বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ডিগ্রিতে ভূষিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ভারতীয়দেরও সম্মান জানিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রাচীন আমল থেকে। এই দুই দেশের শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিকাশে সবার আগে তরুণদের এগিয়ে যেতে হবে।
গত সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের ডেলিগেশন সাক্ষাত্ করতে গেলে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি। দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইতিহাস, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা বললেন।
ব্যস্ত সময়ের মাঝে তিনি প্রায় ১ ঘণ্টা কাটিয়ে দেন বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের মাঝে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, পদ্মা, মেঘনা, গঙ্গা নদীর কথা উল্লেখ করেন।
প্রণব মুখার্জি বলেন, রাষ্ট্রপতি ভবন ১৯৩১ সালে তৈরি। ১৯৪৭-এর আগ পর্যন্ত চারজন ব্রিটিশ ভাইসরয় থেকেছেন এ ভবনে। প্রায় ২শ বছর শাসন-শোষণের পর লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন জওহর লাল নেহরুর কাছে এখানেই (নিজের চেয়ারের দিকে দেখিয়ে) ক্ষমতা হস্তান্তর করে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। বাংলা ভাষার সঙ্গে আমাদের নাড়ির টান রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার দেশের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যাসহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ২০ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে যে সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়েও বেশি। ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু ভাষাগত নয়, অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ব্যাপক মিল রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছেন করিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এ ছাড়াও কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীনও আমাদের জন্য সমান প্রাসঙ্গিক।
ভারতের মুঘল শাসনামল, বাংলাদেশের বারো ভুঁইয়া, ঈশা খাঁ, সোনারগাঁও, যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য, বিক্রমপুরের রাজা কেদার রায় প্রমুখের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। জানান বাংলার প্রতি তার ভালোবাসার কথা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক ও তথ্য) রাজেশ উইকে ও ইশরাত জাহান মুমু রাষ্ট্রপতিকে একটি পিতলের রিকশা ও একটি সম্মাননা স্মারক দেন।
চোখজুড়ানো স্থাপত্যকর্ম
রাষ্ট্রপতি ভবনের স্থাপত্যকর্মগুলো চোখজুড়ানো। দরবার হলের চারটি বড় গম্বুজ নকশাকাটা। রাষ্ট্রপতির চেয়ারের ডান-বামে দুটি আয়না পদ্মপাতার আদলে। তার পাশে দু ধারে মহাত্মা গান্ধীর বড় দুটি ছবি। সামনে শ তিনেক চেয়ার। অনুষ্ঠান শেষে ছিল ভোজনপর্ব। এ টিমে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তরুণ সাংবাদিক, খেলোয়াড়, চিকিত্সক ছাড়াও রয়েছেন তরুণ প্রকৌশলী, গায়ক-গায়িকা ও মঞ্চকর্মী।
ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে গত রবিবার সফরে আসেন ইয়ুথ টিমের সদস্যরা। ৫০ জন তরুণ ও ৫০ তরুণীর এই দল রাজধানী নয়াদিল্লি, আগ্রা, আহমেদাবাদ ও কলকাতার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করছে।
ইত্তেফাক/এএন
