রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের নারী উন্নয়নে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সহযাত্রী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নারী সমাজকে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনীসহ সকল পেশাতেই আজ নারীর অবাধ পদচারণা।’ শুক্রবার বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।
আবদুল হামিদ বলেন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি, ২০১১ এবং এর বাস্তবায়নে প্রণীত কর্মপরিকল্পনা ২০১৩ অনুসরণে সরকার বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নারী ক্ষমতায়নের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ ‘এমডিজি’, ‘সাউথ-সাউথ’, ‘পিস-ট্রি’, ‘চ্যাম্পিয়নস অভ্ দ্যা আর্থ’, প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, ‘এজেন্ট অভ্ চেঞ্জ’ ইত্যাদি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল-মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষণজন্মা মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। নারীমুক্তি, সমাজ সংস্কার ও প্রগতি আন্দোলনের পথিকৃৎ। রোকেয়া শৃঙ্খলিত নারীর স্বাধীনতা, নিপীড়িত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সাধনায় নিজ জীবন উৎসর্গ করেন।
তিনি বলেন, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোড়ামির বিধিনিষেধের অন্ধকার যুগে বেগম রোকেয়া পর্দার অন্তরালে থেকেই নারীশিক্ষা বিস্তারে প্রয়াসী হন এবং মুসলমান মেয়েদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তিলাভের পথ সুগম করেন। সামাজিক নানা প্রতিকূলতা উতরে তিনি আবির্ভূত হন নারী সমাজের মুক্তিদূত হিসেবে। নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বেগম রোকেয়ার জীবনাদর্শ ও কর্ম আমাদের নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় প্রেরণা যোগাবে।
ইত্তেফাক/এমআই
