সরকারি হিসেব অনুযায়ী দেশে নদীর সংখ্যা ৩১০টি। এর মধ্যে গত ২০ বছরে হারিয়ে গেছে ১৯টি নদী। আর অস্তিত্ব সংকটে আছে আরো ২৮টি। বছরে পলি পড়ছে ৪ কোটি টন, যা কমিয়ে দিচ্ছে ১৯ কিলোমিটার নদীপথ। নাব্য সংকটের কারণে নদীগুলো ধুঁকে ধুঁকে মরছে। হারাচ্ছে তাদের স্রোতস্বিনী লহরি। এই সংকটের কারণে নদীপথে নৌযান চলাচলের পথ যেমন সংকুচিত হয়ে পড়েছে, তেমনি এর প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিসহ নদীনির্ভর জীবিকা নির্বাহকারী জেলে সম্প্রদায়ের ওপর। অতীত ইতিহাস আমাদের সবই জানা যে বিশ্বের বড় বড় সভ্যতা নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। আর নদীগুলোই ছিল তখন যোগাযোগসহ পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম। শুধু মানব সভ্যতায় নদীর প্রয়োজন লিখে শেষ করা যাবে না। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় হলো নদীগুলোকে আমরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে শেষ করে দিচ্ছি।
নদীর শোচনীয় পরিণতির জন্য দায়ী কিছু প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং অধিকাংশই মানব সৃষ্ট কারণ। প্রভাবশালী মহল আজ নদী দখলে ব্যস্ত। নদীতে বাঁধ দিয়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে তার গতিপথ। মানুষের ব্যবহার্য সামগ্রীর অবশিষ্টাংশের একটি বড় অংশ ফেলা হচ্ছে নদীতে। ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে দিন দিন পরিণত হচ্ছে বিরাণভূমিতে। তাই আমাদের উচিত হবে সকল প্রতিকূলতা ঘুচিয়ে নদীকে নাব্য করা। এ ব্যাপারে বিআইডবিউটিএ দূরদর্শী ভূমিকা পালন করতে পারে। ড্রেজিং কর্মসূচি আরো বেগবান করা দরকার। সেইসঙ্গে প্রয়োজন দখলদারকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নদীগুলো ফিরে পেতে পারে তাদের অতীত ঐতিহ্য।
মো. শাহ আলম, রসায়ন বিভাগ (স্নাতকোত্তর), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
