বিআইডিএসের গবেষণা : খাদ্যপণ্যের দাম কমলে শিল্পায়ন বাড়ে

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০:১৯
চালের দাম বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। অর্থনীতিতে কম মূল্যের খাদ্য শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে কৃষি খাতে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ে ২০ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যপণ্যের দাম কমলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয়। চালের দাম বাড়িয়ে দারিদ্র বিমোচন এবং গ্রামাঞ্চলের আয় বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারি শীর্ষ গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে। 
 
বৃহস্পতিবার বিআইডিএসের গবেষণা সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে গবেষণার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে মোট সাতটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এক দিনের হরতালের কারণে পোশাক খাতে পরিবহণ ব্যয় ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে প্রকাশিত অপর এক গবেষণার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিআইডিএস এর মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ এবং বিশ্ব চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যের ধরণের পরিবর্তন হচ্ছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন নতুন জোট হচ্ছে। বাংলাদেশের এ কারণে বড় ক্ষতি হবে না। তবে প্রচলিত বাজারের বাইরে নতুন বাজার খুঁজতে হবে। 
 
বিআইডিএসের মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ চালের মূল্য বৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচন শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে ফল এবং সবজি রফতানি প্রতিযোগিতায় প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার ফলাফল শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ড. জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ও ড. আসিফ রেজা অনিক। অনগ্রসর নারী এবং স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বাংলাদেশের শ্রম বাজার বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া পরিবার এবং স্কুল পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষকরা।
 
এ দিকে দুই দিন ব্যাপী গবেষণা সম্মেলনের শেষ দিনে বক্তব্য রাখেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড.শামসুল আলম, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।
 
 
ইত্তেফাক/এমআই