সারি সারি মিনিবাস, লেগুনা দাঁড়ানো, আছে খাবার হোটেল ও সেলুন। একটু সামনে গেলেই ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট স্কুল। দুপুর ১২টায় দিবা শাখার শিক্ষার্থীরা তখন গেটে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। পাশে ম্যানহোলের উত্কট দুর্গন্ধ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন পৌঁছেছে পাশের উন্মুক্ত খাবারের দোকান পর্যন্ত। অভিযোগ আছে, স্থানীয় ছাত্রনেতা ও সরকারদলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবে স্কুলের সামনে এ সকল অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
স্কুল নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগের শেষ নেই। ছেলেকে স্কুলে নিয়ে আসা পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী নির্মল কান্তি জানান, রোদ-বৃষ্টি যাই হোক স্কুল কর্তৃপক্ষ দুপুর ১২টার আগে ফটক খোলে না। তার ওপর গেটের পাশেই খোলা ম্যানহোলের দুর্গন্ধ, লেগুনা, মিনিবাস, রিক্সা ও ঘোড়ার গাড়ির স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকারও উপায় নেই। কিন্তু এসব সমস্যা দেখারও কেউ নেই। সিরাজুল ইসলাম নামে আরেক অভিভাবক বলেন, সন্তানকে স্কুলে দিয়েছি ভালো পড়ালেখার জন্য। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দেখা মেলে না। সহকারী প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তারা এড়িয়ে যান। তার ছেলে বলেন, শিক্ষকরা প্রায় সময় এসাইনমেন্ট ডায়েরি দেখেনই না। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের এক শিক্ষক প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকার পুরোনো স্কুলটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। শ্রেণিকক্ষ অপর্যাপ্ত। নেই খেলার মাঠ। পাঠাগারে আছে অনেক দুর্লভ বই, তবে নষ্ট হচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। পুরানো ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী বলে পরিত্যক্ত। এতে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে। একটি পাঁচতলা ও একটি তিনতলা ভবনে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ চলছে। শ্রেণিকক্ষ ২২টি। প্রভাতি ও দিবা দুই শাখায় বর্তমানে ছাত্রসংখ্যা ২ হাজার ২৫০ জন।
এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ ভুঁইয়াকে পাওয়া যায়নি। তিনি ‘বিশেষ’ ব্যস্ততায় স্কুলে আসেননি। দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর অফিস থেকে বের হয়ে যান। এরপর কথা হয় সহকারী শিক্ষক মো. নোমান হোসাইনের সঙ্গে। তিনি এই স্কুলের সবচেয়ে প্রবীণ শিক্ষকদের একজন। তিনি জানান, বাইরে গাড়ির স্ট্যান্ড সরানো এবং ম্যানহোলে ঢাকনা লাগানোর জন্য বেশ কয়েকবার সিটি করপোরেশনের কাছে আমরা চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এর সুরাহা হয়নি। আমাদের মূল ভবনটি অনেক বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এটা ভেঙে নতুন একটি ভবন হওয়ার কথা থাকলেও এর কোনো অগ্রগতি নেই। জেলা প্রশাসনে ফাইলটি আটকে আছে। আমাদের এসব অসুবিধার কারণে প্রতিবছরই শিক্ষার্থী কমছে। সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চাইলেও, বিভিন্ন অসুবিধার কারণে শিক্ষার্থীরা আশপাশের অন্য স্কুলে চলে যায়।
পরবর্তীতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ ভুঁইয়ার কাছে মুঠোফোনে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট চরমে। নতুন একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেলেও ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। স্কুলের সামনে লেগুনা স্ট্যান্ড সরানোর জন্য বারবার সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে আমরা এর সুফল পাইনি।
