বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল ক্যাম্পাস, অবরুদ্ধ প্রক্টর ডিনসহ শিক্ষকরা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ২২:২১

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’র অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলায় গতকাল বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় দিনের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ভিসি বিরোধী নানা শ্লোগান দিয়েছে। প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে নারী শিক্ষক বাদে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষককে আটকে রাখা হয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, ডিন, বিভিন্ন বিভাগের  চেয়ারম্যান ও শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে অবস্থানে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষকরা আসলে আন্দোলনের জের ধরে তাদের অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। ভিসির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ভিসিকে ক্ষমা চাওয়া সহ ১০ দফা দাবি জানান। এক পর্যায়ে প্রক্টর সুব্রত বড়ুয়া আন্দোলনরতদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড়শ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে রাখে। শিক্ষকদের বড় একটি অংশ ভিসি রুমে ছিলেন, বাকিরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর জানান, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে নারী শিক্ষকদের ছেড়ে দিয়ে ৭০ থেকে ৮০ জনকে আটকে রাখা হয়েছে। এদের অনেকেই দুপুরে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারেনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বৈকালিক চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরে এই ঘটনার প্রতিবাদকারীদের ভিসি ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বললে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েকশ শিক্ষার্থী নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে ভিসি বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত থেকে আন্দোলনে থাকবেন।

এদিকে দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ দপ্তর থেকে ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক কর্মসূচির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে এবং গণমাধ্যমে পাঠালে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তাদের সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতা না করে জনসংযোগ দপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক ফয়সল মাহমুদ স্বাক্ষরিত ঐ বিবৃতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে দেওয়া হয়। ঐ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমি তোমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি, আজকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সকল সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা, বরিশালের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সুধীজন এবং সাংবাদিকদের সম্মানে একটি বৈকালিক চা-চক্রের আয়োজন করেছে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীনতা দিবসের এমন একটি অনুষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। যারা চেষ্টা করছে তারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী নয় বলেই আমার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাদের কার্যক্রম রাজাকার সদৃশ। বিবৃতিতে বলা হয়, ভিসি তার বক্তব্যে কোথাও ঢালাওভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলেননি বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-নাতনি এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বিভিন্ন শিক্ষার্থীরাও রয়েছে, তারা কোনভাবেই স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। কাজেই ভিসির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চলছে তা কোনভাবেই কাম্য নয়।