সমরাস্ত্র প্রদর্শনী দেখে উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ২২:২১

সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহল বরাবরই। তাদের প্রশিক্ষণ, যুদ্ধের সরঞ্জাম ও কৌশল সম্পর্কে জানতে চায় সাধারণ মানুষ। প্রতিবছর সমরাস্ত্র প্রদর্শনী কৌতূহল মেটানোর সে সুযোগ করে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধযান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে এসে এভাবেই নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তারা বলেন, সামরিক বাহিনীতে যোগদানের অনুপ্রেরণা পেলাম। দেশের জন্য কিছু করতে ইচ্ছে করছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নানা শ্রেণি-পেশার অনেক মানুষ।  রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে চলছে এ সমরাস্ত্র প্রদর্শনী। গত ২৪ মার্চ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও সমরাস্ত্র প্রদর্শন করেন। এরপরই সর্ব সাধারণের জন্য সমরাস্ত্র প্রদর্শনী উন্মুক্ত করা হয়।

গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে প্রদর্শনীর নানা বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানানো হয়। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদের সঞ্চালনায় সেনাবাহিনীর পক্ষে ব্রিফ করেন মেজর মো. আমিনুর রহমান, নৌবাহিনীর পক্ষে কমান্ডার মো. ফয়জুল ইসলাম এবং বিমানবাহিনীর পক্ষে উইং কমান্ডার মো. নূরুল্লাহ।  বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ বানৌজা বঙ্গবন্ধু। জাহাজে সাধারণ মানুষের উঠার বা দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধ জাহাজ তেজগাঁওয়ে পুরাতন এয়ারপোর্টে সশস্ত্র বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে এসেছে। তবে আসল নয়, বানৌজা বঙ্গবন্ধুর রেপ্লিকা। দর্শনার্থীরা সেটি দেখে ভীষণ খুশি।  শুধু নৌ বাহিনীই নয়; সেনা এবং বিমান বাহিনীও তাদের সব ধরনের সরঞ্জাম সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করেছে। বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান থেকে শুরু করে দুর্লভ ফাইটার বিমান, সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন সর্বাধুনিক ট্যাঙ্ক, মিসাইলসহ যাবতীয় সরঞ্জাম।

আইএসপিআর পরিচালক বলেন, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকবে এ প্রদর্শনী। এছাড়া রাজধানীর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সশস্ত্র বাহিনীর পরিবারবর্গ ও সেনানিবাসস্থ স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৩০ ও ৩১ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবারের সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে ৫৫টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৩২টি, নৌ বাহিনীর ১০টি এবং বিমান বাহিনীর ৯টি স্টল রয়েছে। এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা, শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ৪টি স্টল করা হয়েছে।

মেজর আমিনুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর স্টলে  সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, যুদ্ধ সক্ষমতার যাবতীয় সরঞ্জাম, অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক ট্যাঙ্কার, সাঁজোয়া যান, গোলন্দাজ, যুদ্ধে ব্যবহূত পদাতিক বাহিনীর বিভিন্ন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, ইঞ্জিনিয়ারস সিগন্যালস, আর্মি মেডিক্যাল কোরের কার্যক্রম, অর্ডন্যান্স, ইএমই কোরের বিভিন্ন সরঞ্জাম, প্যারা কমান্ডো বাহিনীর সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া প্যারা ড্রপিং, র্যাপলিং, সোয়াডস মহড়া, আনআমর্ড কম্ব্যাট, সম্মিলিত ব্যান্ড ও অর্কেস্ট্রা প্রদর্শন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের বর্ণনা করা হয়। বাংলাদেশ মেশিন ট্যুলস ফাক্টরিতে উত্পাদিত বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। এসময় সেনাবাহিনীতে ভর্তির তথ্যও জানানো হয়।

নৌ বাহিনীর পক্ষে কমান্ডার মো. ফয়জুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এই সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। এর বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে—সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ বঙ্গবন্ধুতে কি ধরনের ব্যবস্থাপনা রয়েছে, কিভাবে এটি শত্রুপক্ষের জাহাজ গনাক্ত করে এবং কিভাবে শত্রুকে মোকাবিলা করে তা সবকিছু প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন), যুদ্ধজাহাজ থেকে হেলিকপ্টারে কিভাবে আকাশপথের শত্রুকে মোকাবিলা করা হয় তাও প্রদর্শন করা হচ্ছে।

বিমান বাহিনীর পক্ষে উইং কমান্ডার নুরুল্লাহ বলেন, এবারের সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে জীবনরক্ষাকারী প্যারাস্যুট, ড্রাগস্যুট, হোভার ভেস্ট, ইমারজেন্সি অক্সিজেন বোতল, ইজেকশন সিট, ফ্লাইং হেলমেট, লাইফবোট প্রদর্শন করা হয়েছে। ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষার প্রতিটি ধাপ দেখানো হয় সর্বসাধারণকে। এছাড়া বিমান বাহিনীর বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্টলে হেলিকপ্টার, রাডার, বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম মেইন্টেন্যাস, রিপেয়ার, ওভারহলিং কার্যক্রম প্রদর্শন করা হচ্ছে। গতকাল সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। অনেক অভিভাবক তাদের শিশু সন্তানদের সাথে করে নিয়ে এসেছেন।