আজ ঐতিহাসিক রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ২২:২৩

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

আজ ভয়াল ২৮ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদারদের আবাসস্থল রংপুর ক্যান্টনমেন্টে আক্রমণ করে আদিবাসীসহ কয়েক হাজার বাঙালি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই আক্রমণ নিরস্ত্র মুক্তিকামীদের জোটবদ্ধ লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ। সেদিন তীর-ধনুক নিয়ে পাক হানাদারদের ওপর হামলা চালায় রংপুরের আপামর সাধারণ মানুষ। পাক হানাদারের গুলিতে নিরস্ত্র মুক্তিকামী হাজারো মানুষ সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদ হয় দেড় হাজারের বেশি বাঙালি। তাই আজকের এই দিনটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাঞ্জাবী ক্যাপ্টেনসহ তিন জওয়ানকে হত্যার মধ্য দিয়ে ২৪ মার্চই স্বাধীনতার যুদ্ধ আরম্ভ করে রংপুরের মানুষ। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ক্যান্টনমেন্টের পাশের গ্রাম নিসবেতগঞ্জ, দামোদারপুরে পাকিস্তানি বাহিনী সিরিজ হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ৩২ জনকে বেঁধে জুমার নামাজের সময় লাহিড়িরহাটের কাছে একটি মাঠে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে রংপুরের মানুষ। সাধারণ মানুষের বিক্ষুব্ধতা ২৮ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করে। ২৭ মার্চ সকল বাঙালি সৈন্যকে আটকে অস্ত্র জমা নিয়ে রাতে ইপিআর ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ খবর বাইরে আসামাত্র গ্রামের হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ তীর ধনুক-বল্লম, দা-কুড়াল আর বাঁশের লাঠি হাতে ক্যান্টনমেন্টের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে নিসবেতগঞ্জহাট ও তার আশপাশ এলাকাসহ ঘাঘট নদীর তীর ঘেঁষে জমায়েত হতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য এলাকা থেকেও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় জমায়েত হতে থাকে হাজার-হাজার মুক্তিকামী মানুষ। শুরু হয় সম্মুখ লড়াই। সেদিন বলদিপুকুর এলাকা থেকে আসে ওঁরাও উপজাতিদের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা বুদু ওঁরাও এর নেতৃত্বে কয়েক হাজার ওঁরাও। সবার মুখে ছিল গগনবিদারী স্লোগান ‘এস ভাই অস্ত্র ধর, ক্যান্টনমেন্ট দখল কর।’ সাঁওতাল তীরন্দাজ বাহিনী কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করে। এমন সময় বৃষ্টির মত ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসতে থাকে গুলি। অসম সেই লড়াইয়ে সেদিন শত শত মানুষ শহীদ হয়। এর মধ্যে কিছু মানুষের লাশ পাওয়া গেলেও অন্যদের লাশ ক্যাম্পে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলে হায়েনারা।

সেই ঐতিহাসিক ২৮ মার্চ এবং বীর শহীদদের স্মরণে শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত মডার্ন মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘‘অর্জন’’।

এছাড়া ঐতিহাসিক নিসবেতগঞ্জ বধ্যভূমিতে “রক্ত গৌরব” নামে আরো একটি স্মৃতিস্তম্ভ আজও নিরবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতি বছর নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কুরআন তেলওয়াত, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন, আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত,  আলোচনা সভা, প্রামাণ্য দলিল ও স্থির চিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।