মানিকগঞ্জে তিন ফসলি জমি থেকে ক্রমাগত মাটি বিক্রির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি জমি, ভাঙছে রাস্তাঘাট। সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের নবগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশেই তিন ফসলি কয়েকটি কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটা ও বাড়ি ভরাটের কাজে নেওয়া হচ্ছে। এতে পাশের জমির আবাদকৃত ফসল ও জমিরও ক্ষতি হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপরন্তু মাটি নেওয়ার জন্য আবাদি ফসলের উপর দিয়ে রাস্তা করে মাটি বহনকারী ট্রাক নেওয়া হচ্ছে। এতে ফসলি কৃষি জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে পাকা রাস্তায় প্রবেশের রাস্তার কিছু অংশ ভেঙে যাচ্ছে। বেপরোয়া মাটি বহনকারী ট্রাক চলাচলে প্রচুর ধুলা উড়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাটও।
মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তিন ফসলি কৃষি জমি থেকে মাটি নেওয়ার বিষয়টি আমরা ইউএনও অফিসে জানিয়েছি। মাটি ব্যবসায়ী গোলাপ জানান, “ আমরা ৩/৪ জন মিলে যৌথভাবে এ ব্যবসা করছি। ইউএনও স্যারের পিএস এসে দেখে গেছেন, তারা আমাদের মৌখিকভাবে মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছেন।”
সরেজমিনে নবগ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৩ বিঘা পরিমাণ ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটা ও বাড়ি ভরাটের কাজে ব্যবহারের জন্য। যে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে তার পাশে ভুট্টা, ইরি ধান ও মরিচের আবাদ করা হয়েছে। ক্ষেতে প্রচুর ভুট্টাও ধরছে। সেই ভুট্টার উপর দিয়ে মাটির ট্রাক চলাচল করছে। সরুপাই থেকে নবগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভিতর দিয়ে নবগ্রাম বাজারে যাওয়ার রাস্তাটিতে মাটিবাহী ট্রাক অনবরত চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, মাটি ব্যবসা যারা করে তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার মতো সাহস আমাদের নেই। প্রশাসন যেন কৃষক, কৃষি জমি ও রাস্তাঘাটের ক্ষতিকারক এ মাটি ব্যবসা বন্ধ করেন।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন সরদার জানান, মাটি কাটার বিষয়ে আমরা কাউকে কোনো অনুমতি দেইনি। যদি কৃষি জমি ও রাস্তার ক্ষতি হয় তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
