ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপর হামলার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে দাবি আদায়ের লক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল পরিচালক আ স ম বরকতুল্লাহ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
পুলিশ জানায়, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শহীদ ড. মিলন হোস্টেলে সোমবার রাতে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের দুই গ্রুপের নেতৃত্বের কোন্দলের জের ধরে বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় এক ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। এ সময় হোস্টেলের চারটি কক্ষে ভাঙচুরসহ মালামাল লুট করা হয়। গুরুতর আহতরা হলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাবেক সভাপতি মাহফুজুল হক তালুকদার রাকিব ও কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ছাত্র রাসেল। তাদেরকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দাবি আদায়ে দুপুরে হাসপাতাল পরিচালক আ স ম বরকতুল্লাহ বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ফারহান রহমান ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম দেবনাথের নেতৃত্বে পরিষদের নবগঠিত কমিটির নেতারা রাতে শহীদ ডা. মিলন হোস্টেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গেলে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তাদের হামলায় ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাবেক সভাপতি মাহফুজুল হক তালুকদার রাকিব ও কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ছাত্র রাসেল গুরুতর আহত হন। ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ফারহান রহমান ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম দেবনাথ জানান, সোমবার বিকালে পরিচালকের কক্ষে সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সম্মতিক্রমে আমাদের দুইজনকে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সন্ধ্যার দিকে আমরা শহীদ ডা. মিলন ছাত্রাবাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাবেক সভাপতি মাহফুজুল হক তালুকদার রাকিব, ইন্টার্ন চিকিৎসক শহীদুজ্জামান শহীদ, আশিক ফেরদৌস রিগ্যান আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বহিরাগত চিকিৎসক সৈয়দ মামুনুর রহমান মামুন ও লেলিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। এ সময় ডা. রাকিব ও কলেজ ছাত্র রাসেল আহত হয়। তারা আরো অভিযোগ করেন, রাকিব একজন মাদকাসক্ত। ইয়াবাসহ ধরা পড়ার কারণে মেডিক্যালের হেলিপ্যাড ছাত্রাবাসের ডেন্টাল ইউনিটের ছাত্র রাসেলকে হোস্টেল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। এরপর থেকে রাকিব তার কক্ষে রাসেলকে রেখে অবৈধ এবং অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। সোমবার রাতেও তারা গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করছিল। এ সময় তারা হামলার শিকার হন। রিগ্যান ছাত্রদলের সক্রিয় সন্ত্রাসী ক্যাডার ছিল। তাকে তারা ছাত্রলীগ বানাতে গিয়ে সংগঠনের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
অপরদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসক শহীদুজ্জামান শহীদ এবং আশিক ফেরদৌস রিগ্যান হামলার দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক ফারহান রহমান ও উত্তম দেবনাথের নেতৃত্বে আমাদের হোস্টেলে হামলা চালিয়ে আমাদেরকে আহত, কক্ষ ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। ফারহান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা হোস্টেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা লুটপাট করেছে। তারা ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যোগসাজস করে প্রায় এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বহিস্কার এবং গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা পর্যন্ত হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আ স ম বরকতুল্লাহ এবং কলেজ অধ্যক্ষ ডা. অনিমেষ মজুমদার জানান, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দুই গ্রুপের নেতৃত্বের কোন্দলের জের ধরে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আহত এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
