বহুল ব্যবহৃত নোট বাতিলের ফলে ভারতের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের চেয়ে কমিয়ে নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক হালনাগাদ করে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এতে উল্লেখ করেছে, চলতি বছর যে ধারণা করা হয়েছিল, এশিয়ার প্রবৃদ্ধি তার চেয়েও কম হবে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছয় দশমিক ৯ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৬ এ নামিয়ে আনা হয়েছে। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে প্রবৃদ্ধি আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
আশা করা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এবছর ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭ দশমিক ৪ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, কৃষিখাতে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি না হওয়া এর কারণ। তবে সম্প্রতি পাঁচশ ও এক হাজারের নোট বাতিলের কারণে ভারতের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় ভারতে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। নোট বাতিলের ফলে ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের অর্থনীতির মতো নগদ ভিত্তিক খাতগুলো বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এডিবি আশা করছে আগামী বছর নোট সংকট কেটে গেলে ভারতের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
প্রতিবেদনটির বিষয়ে এডিবির উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ জুঝং জুয়াং উল্লেখ করেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পরেও এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি ভালো করেছে। উত্পাদনশীলতা বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা এবং দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনীতির ভাবিষ্যত্ গতি বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
মোটা দাগে উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। গেল সেপ্টেম্বর মাসের আউটলুক প্রতিবেদন অনুযায়ী আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে এডিবি। সেসময় এডিবি উল্লেখ করেছিল চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ১ হতে আগামী বছর ২০১৭ সাল নাগাদ ৬ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এবার হালনাগাদ প্রতিবেদনে এটি পরিবর্তন করা হয়নি। ভারতের বাইরে ভুটান ও নেপালের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে নাও পারে। জলবিদ্যুত্ এবং পর্যটন শিল্পে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় এই আশঙ্কা করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর এই দুটি খাত থেকে ভালো ফল পাওয়া যাবে। অন্যদিকে মালদ্বীপ পর্যটন খাতে এগিয়ে রয়েছে। সেবা খাতের ওপর ভর করে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস অনুযায়ী এগুচ্ছে। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের ফলে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির গতিও ধীর হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কিছুটা কমানো হয়েছে। এবছর পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আগামী বছর এটি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। এবছর চীনের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৬ ভাগ। আগামী বছর এটি ৬ দশমকি ৪ ভাগে নেমে আসতে পারে। চীনে চলতি বছর বিশেষ করে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় বৃদ্ধিসহ প্রকৃত মজুরি বেড়েছে। ফলে এবছর এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবছর সাড়ে ৪ ভাগ এবং আগামী বছর ৪ দশমিক ৬ ভাগ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মধ্য এশিয়ায় এবছর দেড় শতাংশ এবং আগামী বছর ২ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
