যাত্রাবাড়ীতে মাতাল অবস্থায় লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে ওবায়দুল্লাহ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ওবায়দুল্লাহও ওই সময় মাতাল অবস্থায় ছিলেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর পুলিশের কাছে ঘটনাটি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগের বধূয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে রিকশায় যাওয়ার সময় কে বা কারা ওবায়দুল্লাহকে গুলি করে। সন্ত্রাসীদের এক রাউন্ড গুলি তার তলপেটে ঢুকে যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে ২ নম্বর বেডে ওবায়দুল্লাহ চিকিত্সাধীন। গুলিবিদ্ধ ওবায়দুল্লাহ’র বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল নজরুল পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুল্লাহ’র একজন বন্ধু জানান, ধলপুরের ৫৪/১ নম্বর বাড়িটির মালিক সফর আলী। দোতলা বাড়ির নিচতলায় জনৈক সালিমের একটি অফিস আছে। এই অফিসে প্রায় রাতেই আড্ডা বসে। আড্ডার আয়োজক হলেন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন গেসু। ওবায়দুল্লাহ ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি জমি ক্রয়-বিক্রয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরো জানান, শুক্রবার রাত ১১টার পর সালিমের অফিসে তাদের আড্ডা বসে। আড্ডায় গেসু, ওবায়দুল্লাহ ও সালিম ছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৩ কর্মী অংশ নেন। এই তিন জন মূলত গেসু’র সহযোগী। আড্ডায় তারা মদ পান করেন। এক পর্যায়ে গেসু ও ওবায়দুল্লাহ’র মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বিষয়টি মিটমাটের চেষ্টা হয়। কিন্তু গেসুর সঙ্গে ছিল লাইসেন্সকৃত পিস্তল। প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে ওবায়দুল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি করে। একটি গুলি ওবায়দুল্লাহ’র পেটে লাগে। বাকি দুইটি গুলি ওই অফিসের দেয়ালে লাগে। গেসুর লাইসেন্সকৃত পয়েন্ট থ্রিটু বোরের সি জেড পিস্তলটি চেক রিপাবলিকের তৈরি।
ঘটনার পরপর ওবায়দুল্লাহকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ছুটে যান তার ভাই পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল নজরুল। শনিবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘তার বাসা যাত্রাবাড়ী পূর্ব শেখদীতে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পল্টন থেকে রিকশায় বাসায় ফিরছিলেন ওবায়দুল্লাহ। পথে সায়েদাবাদ ব্রিজের কাছে বধূয়া কমিউনিটি সেন্টারের কাছে একটি মোটরসাইকেল যোগে দু’জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
এ ঘটনার ৫ দিন পরও সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশের একটি টিম ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিতে ঐ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গেলেও এ ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য পায়নি। কমিউনিটি সেন্টারের লোকজন ওই দিন কোনো গুলির শব্দ শোনেনি এবং গুলিবিদ্ধ কাউকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে—এমন দৃশ্য কেউ দেখেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, শুক্রবার রাতের ঘটনার পর থেকে আহতের পরিবারের কেউই থানায় অভিযোগ দেয়নি। কেউ যদি অভিযোগ দেয় আমরা তদন্ত করব।
ঘটনার পর থেকে ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন গেসুর ব্যবহূত দুইটি মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে। পুলিশ যাত্রাবাড়ীতে গেসুর বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে যে, তিনি পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার রাতের পর থেকে বাসায় আর ফিরেননি।
