ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার চ্যান্সারি প্রাঙ্গনে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু করেন ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেয়া বাণী পড়ে শোনানো হয়।
ঢাকা সরকারি মিউজিক কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আয়োজনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এসময় গণপূর্তমন্ত্রী মোশারফ হোসেন, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
মোশাররফ হোসেন ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীমায়া সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রাক্কালে তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের স্মৃতিচারন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাকিস্তানী সেনাদের বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর অসীম সাহসিকতার গল্প ও নিজেদের অভিজ্ঞতা আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।
স্বাগত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্মরন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুমহান ত্যাগের কথা যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নৃশংশতার বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিল। তিনি তার বক্তব্যে সেই দুঃসময়ে ভারত সরকার এবং তার জনগণের সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং মানসিক সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরন করেন।
এরপর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিল্পীবৃন্দ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পর্যন্ত বাংলাদেশের গৌরবোজ্জল ইতিহাস ও ত্যাগের ধারাবাহিক ঘটনা প্রবাহ গানের মাধ্যমে আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন যা সমবেত সকলের প্রশংসা অর্জন করে।
এছাড়া, এদিন হাই কমিশনের কর্মকর্তাগন ভারত ফাউন্ডেশন ও নেহেরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও লাইব্রেরী কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত একটি কর্মশালায়ও অংশগ্রহণ করেন।মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রান মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি এবং ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। কর্মশালায় ভারত ও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাগণ যুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ অভিযান সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারন করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাসবিদ এবং লেখক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.)কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক।
ইত্তেফাক/এমএইচ
