ওষুধের দাম বেশি নিলে জরিমানা

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:৫০

ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধ তৈরি, বিক্রি ও আমদানিতে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ এবং এখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় একটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে— এই বিধান রেখে জাতীয় ওষুধ নীতি অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে এখন প্রতিটি ওষুধ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হলো। কেউ ওষুধের অতিরিক্ত দাম নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক সভায় ওষুদ নীতির অনুমোদন দেওয়া হয়।

 
সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। এ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারির মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।
 
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, এই কর্তৃপক্ষের নাম হবে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ। এই কর্তৃপক্ষ ওষুধের মান থেকে শুরু করে কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের মান দেখবে। তৈরি ওষুধের মানও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে পারবে এ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তর এসব বিষয় দেখভাল করে।
 
১২২টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ যাচ্ছে। ফলে মান নিয়ন্ত্রণের যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জীবনরক্ষাকারী ওষুদের মধ্যে ভেজাল দেওয়াসহ নানা ধরনের ত্রুটি থাকার অভিযোগও আসে। একারণে দেশীয় ওষুধ শিল্পের মান বজায় রাখা জরুরি। ২০০৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় ওষুধ নীতি করা হয়েছিল। এর মধ্যে অনেক কিছুর পরিবর্তন হওয়ায় নতুন করে আবার এই নীতি প্রণয়ন করা হলো।
 
নতুন ওষুধ নীতির আওতায় বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সংশোধন করা হবে। কার্যকর নিরাপদ ও মানসম্পন্ন ওষুধের সহজলভ্যতা এবং ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সব ওষুধ নিবন্ধন করতে হবে। এ ছাড়া নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ প্রস্তুত, বিক্রি ও বিতরণ রোধসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নীতিতে বিস্তারিত বলা রয়েছে।
 
ওষুধ নির্বাচন, পরিমাণ নির্ধারণ, ওষুধ সংগ্রহ, মুজদ ও বিতরণ; ওষুধের বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিকভাবে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ, দেশে নতুন প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান স্থানান্তর, ওষুধ গবেষণা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও নীতিতে বলা হয়েছে।
 
সরকার জনস্বার্থ বিবেচনা করে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা নিয়মিত হালনাগাদ করবে জানিয়ে শফিউল বলেন, প্রতিবছর অন্তত একবার ওষুধের মূল্য তালিকা হালনাগাদ করে জনগণের অবগতির জন্য সব ওষুধের খুচরা মূল্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
 
সামরিক শাসনামলে ১৯৭৭ সালে প্রণীত কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অর্ডিনেন্স সংশোধন করে নতুন করে বাংলায় আইন করার একটি প্রস্তাবেও এদিন নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মূলত আগের আইনই যথাসম্ভব রাখা হয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে একটু সংশোধন করা হয়েছে। আগের আইনে যে শাস্তির বিধান ছিল সেখানে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
 
এ ছাড়া সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিলে উচ্চ আদালতের আদেশ থাকায় নতুন করে তৈরি নজরুল ইনস্টিটিউট আইন ২০১৬ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৬ এর খসড়ারও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

ইত্তেফাক/এএন