মৃত্তিকা গুণের আকাশ বৃষ্টিময়

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ১৯:৫৯

কবি মৃত্তিকা গুণের আকাশ বৃষ্টিময়। রোদ কালিমাখা। তাঁর কবিতায় ঘাসেরা তাকিয়ে থাকে নক্ষত্র হয়ে। মাটির ভেতর মাটি হয়ে, ফসলের ভেতর ফসল হয়ে, পাখির ভেতর পাখি হয়ে নির্জন কবিতাগুলো স্নো বলিং এফেক্টে ছড়িয়ে পড়ে পাঠকের মনে।

কিন্তু এবার ছোটগল্প। লেখকের ‘চারকাহন’ চতুর্মাত্রিক প্রার্থনার পিয়ানো। যেন নিঃসঙ্গ ম্লান কোনো মন্দিরে বসে লেখা স্বপ্নবাস্তব। রিয়্যাল আর ভার্চুয়াল পৃথিবী আজকাল অবিরত স্থানবদল করে। বোঝা যায়, ভূমা মোটেই তেমন নয়—যেরকম লিখে গেছেন ভূতাত্ত্বিকেরা। এখন জিপিএস আশ্রয় করে ভালোবাসা পথ চলে। ভগবান আর আল্লাহ একই ইস্যু নিয়ে লোফালুফি করেন। বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন রোবোটেরা। নাসা নির্দেশিত মহাজাগতিক সর্বনাশ কি সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই লেখকের বয়ান ছোট ছোট ঘটনার ব্যাঞ্জনার পাশাপাশি অধুনান্তিক সংরাগ তুলে ধরে।

এরই ধারাবাহিকতায় আসে সামাজিক উপেক্ষা, ধূসর রাজনীতি, মনোমানচিত্র, জাদুবাস্তবতা, কাঠামো ভাঙা নির্মাণ। ছায়ার সাথে কায়া, কায়ার সাথে মায়ার যুদ্ধ চলে। তারই মাঝে খেলে যায় রৌদ্রছায়া। বর্ষা আসে, আসে বসন্ত। এহেন প্রাকৃতিক বয়ান লেখা ঠিক রক্তশূন্য শৌখিন লেখকের কাজ নয়। শব্দের প্রতিটি আঁচড় এখানে রক্ত ও জীবন দাবি করে। পাড়ার মোড়ে তাই লেখকের দেখা হয় লাতিন কিংবা জাপানি লেখকদের সাথে। ভিনসেন্ট ভ্যানগগ গমক্ষেত থেকে উঁকি দেন। তাঁর আগমনে আড্ডা জমে ওঠে। কফির গন্ধের সাথে কল্পনা মিশে ধাতব গোধূলি হয় অগ্নিভ। সবুজ ছাই ওড়ে চারপাশে চতুর্দিকে। 

ভাবনার ভূগোলে লড়াই চলে সব চরিত্রের, আরবার মৈত্রী হয় কালহীন নামহীন কোনো প্রান্তরে। রাতের অন্ধকারে ফের ঢুকে পড়েন ভিনসেন্ট—লেখকেরই খামখেয়ালে। তা হোক। অন্ধকারের উত্স হতে উত্সারিত আলোয় দীপাবলি জ্বালান গল্পকার।

চারকাহন

মৃত্তিকা গুণ

প্রচ্ছদ :সব্যসাচী হাজরা 

প্রকাশক :বাতিঘর