সুরমা নদী ভাঙনে বিশ্বনাথের মাহতাবপুর গ্রামের ১০টি পরিবার গৃহহারা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় পুরো গ্রামের লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্কের বিরাজ করছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন গৃহহারা পরিবারগুলো। এসব পরিবারের কথা চিন্তা করে জরুরিভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের সুরমা নদীর তীরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে তিনদিনে মাহতাবপুর গ্রামের ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকায় নদী ভাঙন রোধে ব্লক বসানো হয়। বর্তমানে এই ব্লকের পূর্বদিকে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অতিদ্রুত ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে অনেকের বসতভিটা ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত তিনদিনে মাহতাবপুর গ্রামের আছকর আলী, বিলালউদ্দিন, গাবরু মিয়া, আবদুর নূর, মোহাম্মদ আলী, শহিদ মিয়া, রুশন আলী, শামছুল হক, জিয়াউল হকসহ প্রায় ১০টি পরিবার নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার বিকেলে নদী ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদী ভাঙনের ফলে বেশ কয়েকটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। তাদের আর্তনাদে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মী এসেছেন শুনে এলাকার শত-শত মানুষ জড়ো হতে দেখা যায়। এ সময় তারা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা্ করছেন। নদী ভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমবার পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক এ কে এম দুলাল, স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল মিয়া, এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরীর একান্ত সচিব আবু বক্কর প্রমুখ। আব্দুন নূর বলেন, ‘নদী ভাঙনে পরিবার নিয়ে গত দুইদিন ধরে খোলা আকাশে বসবাস করছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার নদীর ভাঙন পরিদর্শনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
ইত্তেফাক/এএন
